ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উত্তরবঙ্গকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করা হয়েছে। উন্নত শিক্ষা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ চাকরির জন্য এ অঞ্চলের মানুষকে রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে অঙ্গীকার করছি, ইনশাআল্লাহ আপনারা ঘরে বসেই উত্তরবঙ্গকে রাজধানীর মর্যাদা দেবেন।
শনিবার বেলা ১১টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ভোটের পক্ষে ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি করে পুরোনো ব্যবস্থা উচ্ছেদের আহ্বান জানান।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা পুরো উত্তরবঙ্গকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করতে চাই। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মূলত দুটি কারণে—মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। ইনশাআল্লাহ আমরা চাঁদাবাজদের নির্মূল করব। তিনি চাঁদাবাজদের উদ্দেশে বলেন, ভয় পেয়ো না। তোমরাও এ সমাজের অংশ। আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদের হাতেও সম্মানজনক কাজ তুলে দেব। তখন তোমাদের আর লুকিয়ে চলতে হবে না, তোমাদের মা-বাবাকেও কেউ চাঁদাবাজের পরিবার বলবে না।
তিনি জানান, "পর্যায়ক্রমে সর্বত্র মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।"
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "অনেকে জেল খেটেছেন, হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন, কিন্তু দেশ ছাড়েননি। তারা এ মাটিকে ভালোবাসেন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। মায়েদের জন্য ঘরে-বাইরে সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং তারা রাষ্ট্রের সব কাজে অংশগ্রহণ করবেন।"
তিনি কর্মসংস্থানের জন্য এ অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমরা এদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেব। এছাড়া বালাসি ও বাহাদুরাবাদ ঘাটকে সেতু দিয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা যুবকদের বেকার ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেব না; বরং তাদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলব। এরপর তারা দেশে-বিদেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।"
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. আবদুর করিম, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছ এবং গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মাজেদুর রহমান।
সভা শেষে জামায়াতের আমির দলীয় পাঁচ প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পরিচয় করিয়ে দেন।
এর আগে শনিবার সকালে তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় জনসভা করবেন। গত শুক্রবার তিনি পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে নির্বাচনী জনসভা করেছেন।
এসবিআর
আপনার মতামত লিখুন :