আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ: জেডিপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ: জেডিপি

ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে হামলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির দাবি, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হলে সেই পরিস্থিতির রাজনৈতিক সুবিধাভোগী হবে আওয়ামী লীগ, আর এর ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।

সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমাদ বলেন, সম্প্রতি এনসিপির সভায় হামলার ঘটনায় জেডিপি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। হাসিনা আমলে বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশে হামলা ও দমন-পীড়ন ছিল নিয়মিত ঘটনা। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন। এ অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার পেছনে কারা ছিল এবং কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্ত করে বের করা উচিত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এনসিপিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের যোগদানের তথ্য এসেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ হামলায় সহযোগিতা করেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

এনসিপির কিছু নেতার মুখে 'একটা বোমা ফুটলে দশটা বোমা ফাটবে, একটা গুলি চললে দশটা গুলি চলবে'—এ ধরনের স্লোগান শোনা গেছে উল্লেখ করে নাঈম আহমাদ বলেন, প্রতিশোধমূলক ভাষা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক নয়; বরং এটি পুরোনো সহিংস রাজনৈতিক ধারারই বহিঃপ্রকাশ। এটা আওয়ামী লীগের চরিত্র। নতুন রাজনীতির নামে আওয়ামীতন্ত্র বাস্তবায়ন চলবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ তুলে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, এটি রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক। বিভিন্ন মাধ্যমে এমন অভিযোগও এসেছে যে, এসব অস্ত্রের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রও থাকতে পারে। এ ছাড়া জুলাইয়ের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পরবর্তী সময়েও থানা থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া বা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের কোনো অসাধু চক্রের সহযোগিতা, গাফিলতি বা যোগসাজশ ছাড়া এমনটি সম্ভব নয়। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি।

সারা দেশে কালেমাখচিত পতাকা উত্তোলনকে স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে কোনো পক্ষ যেন নাশকতার সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি বিতর্ক মুক্ত থাকতে ভিন্ন ক্যালিগ্রাফির কালেমার পতাকা উত্তোলনের জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশ আরও অস্থিতিশীল হবে এবং আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপি এনসিপির সভায় হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনলাইনে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ পাঁচ দফা দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, নির্বাহী পর্ষদ সদস্য ফুয়াদ জামান, শেহনাজ রশীদ খান এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ 

Link copied!