বিএনপির সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরল জেডিপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
বিএনপির সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরল জেডিপি

ফাইল ছবি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ছয় মাসের শাসনকালকে ‘মূল্যায়নের সময়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ৬টি প্রধান ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের রাজনীতি বন্ধ, অর্থনৈতিক স্থবিরতা দূরীকরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ সরকারের এসব সীমাবদ্ধতা ও প্রস্তাবনা পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সরকারের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসাও করা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতপ্রকাশের সুযোগ রাখা, বিগত সরকারের পুনর্বাসনের পথ রুদ্ধ করা, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি পাঠানো, সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল এবং সরকারি কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিতের মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দলটি।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি সরকারের ছয়টি বড় ব্যর্থতা বিস্তারিতভাবে চিহ্নিত করেছে জেডিপি। প্রথমত, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাঙ্গনে কুয়েট ও জগন্নাথ বিশ্বিবদ্যালয়ে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের সংঘাতের মধ্য দিয়ে আবারো সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসার অভিযোগ আনা হয়। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি সংসদে উত্থাপন না করার বিষয়টিকে গোপনীয়তার পুরোনো চর্চা বলে অভিহিত করেছে দলটি।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনাকে চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক নিয়োগ, খেলাপি ঋণ ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ব্যর্থতার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের তেল মজুত সক্ষমতা তৈরিতে সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করা হয়। ষষ্ঠত, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বেকার ভাতা প্রদান ও দেড় কোটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস বাস্তবায়নে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া জুলাই গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত না হওয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপণ্যের বাজার ও ওষুধ নীতি নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত নেতারা জানান, বিরোধিতা নয়, বরং দায়িত্বশীল রাজনীতির অংশ হিসেবেই সরকারের এই জনস্বার্থবিরোধী ভুলগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সংকট নিরসনে কো-অপারেটিভ এডুকেশন চালু, দক্ষ জনশক্তি রফতানি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এসএইচ 

Link copied!