প্রথমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি পদে একজন আলেম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
প্রথমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি পদে একজন আলেম

দেশের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে দায়িত্ব পেলেন একজন পেশাদার আলেম ও জাতীয় মসজিদের ইমাম। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫ অনুযায়ী অন্যান্য পেশাগত সংশ্লিষ্টতা ত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাঁকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আলেম ও মসজিদের ইমাম সচিব পদমর্যাদার এ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগ পেলেন। বিষয়টিকে ধর্মীয় ও প্রশাসনিক দুই অঙ্গনেই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী কওমি, আলিয়া ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একজন বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আরবি বিভাগে অধ্যয়ন করেন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি স্তরেই তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন তাঁর একাডেমিক সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ।

কর্মজীবনে তিনি শিক্ষকতা, গবেষণা ও ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামী ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই নিয়োগ ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয়ে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

ধর্মীয় অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীর নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং গবেষণা, শিক্ষা ও ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

এম

Link copied!