ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ—এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। কুরআন-হাদিসে এ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। একজন মুমিনের জন্য এটি ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ।
জুমার দিনের ফজিলত
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আগের উম্মতদের কাছ থেকে জুমার মর্যাদা গোপন রাখা হয়েছিল, পরে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এ দিনকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হয় (মুসলিম, ৮৫৬)।
এছাড়া জুমার দিনেই—
* হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়
* তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়
* তার ইন্তেকাল ঘটে
* একটি বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়
* কিয়ামত সংঘটিত হবে (ইবনে মাজাহ, ৮৯৫)
জুমার দিনের বিশেষ ৬টি আমল
১. জুমার নামাজ আদায়
এ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ। এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত ছোট গুনাহ মাফ হয়ে যায় (মুসলিম, ২৩৩)।
২. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সুগন্ধি ব্যবহার করা ও ভালো পোশাক পরা সুন্নত। এতে বিশেষ সওয়াব রয়েছে (বুখারি, ৮৮৩)।
৩. আগে আগে মসজিদে যাওয়া
আগেভাগে মসজিদে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপে সওয়াব বৃদ্ধি পায় (বুখারি, ৮৪১)।
৪. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
ইমাম খুতবা শুরু করলে নীরবে মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। এতে জুমার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায়।
৫. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত
জুমার দিনে সূরা কাহাফ পড়লে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরান্বিত হয় বলে হাদিসে এসেছে।
৬. দরুদ শরিফ ও দোয়া বৃদ্ধি করা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি দরুদ পাঠ করা এবং দোয়া করা এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিশেষ করে আসরের পর একটি সময় দোয়া কবুল হয়।
জুমার দিন শুধু নামাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়— এটি ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ। নিয়মিত এসব আমল পালন করলে জীবনে শান্তি ও বরকত বৃদ্ধি পায়।
এম
আপনার মতামত লিখুন :