চলতি টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কামব্যাক ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের রোমাঞ্চ দিলেও, মাঠের বাইরের নাটক যেন থামছেই না। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটলেও ম্যাচের বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় চলছে। বিশেষ করে গোল বাতিল ও পেনাল্টি না পাওয়ার মতো ঘটনায় ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারা মিসর অফিশিয়ালি ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফুটবল ভক্তদের মনে একটাই বড় প্রশ্ন— ফিফার তদন্তে মিসর জয়ী হলে আর্জেন্টিনার কপালে আসলে কী ঘটবে?
ম্যাচের ফল কি বদলে যাবে?
মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদার আবেদনের প্রেক্ষিতে ফিফা এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে ফুটবলীয় নিয়ম অনুযায়ী, তদন্তে যদি মিসরের দাবি সত্যিও প্রমাণিত হয়, তাহলেও আর্জেন্টিনার কোনো ক্ষতি হবে না।
ম্যাচের অফিশিয়াল রেজাল্ট বা ফলাফল পরিবর্তন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন বা রি-ম্যাচ হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার জায়গা পুরোপুরি সুরক্ষিত এবং এই তদন্তের সাথে আলবিসেলেস্তেদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
মিসরের মূল দাবি কী এবং শাস্তি কার হবে?
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মিসর কোচ হোসাম হাসান ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেন, ম্যাচের ফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং ফরাসি রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। মূলত দুটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে মিসর:
১. ভিএআর রিভিউয়ের মাধ্যমে মিসরের একটি গোল বাতিল করা।
২. আর্জেন্টিনার করা তৃতীয় গোলের ঠিক আগে ফাউল হলেও সেটি ভিএআরে চেক না করা।
মিসর ফুটবল সংস্থার মূল দাবি হলো— ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার সহকারীদের যেন টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে আর কোনো দায়িত্ব না দেওয়া হয়।
সম্ভাব্য পরিণতি
ফিফার তদন্তে রেফারিদের ভুল প্রমাণিত হলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়বেন মূল রেফারি, লাইন্সম্যান এবং ভিএআর টিমের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তবে রেফারির বিরুদ্ধে করা কঠোর মন্তব্যের কারণে উল্টো মিসর কোচের ওপরও ফিফার শাস্তির খড়্গ নেমে আসতে পারে, যা তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কিছুটা লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :