ছবি: প্রতিনিধি
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ২ নম্বর বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেককে আটকের প্রায় আট ঘণ্টা পর পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইসলামপুর থানা থেকে তাঁকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে দুপুরে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এলাকা থেকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ইউনিয়ন পরিষদে গেলে স্থানীয় কিছু লোক তাঁকে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে দেয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। বিকেল তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এসব অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকায় প্রভাব বিস্তার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ এবং মাদক সংশ্লিষ্টদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে ওঠে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অতীতে বেলগাছা ইউনিয়নের ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা তাঁকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে একাধিক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁকে নিয়ে বিতর্ক থাকায় আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীদের কয়েকজন। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই চেয়ারম্যান জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আটক করার পরও ছেড়ে দেওয়া জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল বলেন, স্থানীয়দের মারধরের ঘটনায় তাঁকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :