গাজীপুরে ২১ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

  • গাজীপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
গাজীপুরে ২১ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর: প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে আপন নীড়ে ছুটছে কর্মজীবী মানুষ। এর মধ্যেই বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। যানবাহনের তীব্র চাপ ও ঘরমুখী মানুষের ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল গড়াতেই শিল্পঅধ্যুষিত গাজীপুরের কয়েকশত শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটি পেয়েই কর্মজীবী এসব মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুরের ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায়  বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সড়কে নেমেছে হাজার হাজার যাত্রী। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীর চাপের সাথে সাথে ছোট বড় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এতে চন্দ্রা টার্মিনালে যানবাহন প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে এ সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে জেলার কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ৬ কিলোমিটার সড়কে নজিরবিহীন যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন।

দূরপাল্লার বাসে থাকা যাত্রী আল মাহাদী বলেন, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বের হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠেছি। এক ঘণ্টায় গাড়ি এক কিলোমিটার এগিয়েছে। ধীরে ধীরে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬ ঘণ্টার সড়ক ১২ ঘণ্টায় শেষ হবে কিনা তাই ভাবছি।

সোহান ট্রাভেলসের চালক মাহতাবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে যানজট বেড়ে গেছে। পুলিশ বাহিনী ঠিক মতো কাজ করছে না। এভাবে চলতে থাকলে যানজট ৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে। এতে পরিবহন ও যাত্রী সকলের কষ্ট হবে।

চন্দ্রা টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িতে উঠার অপেক্ষায় আছি। যানজটের কারণে গাড়িই আসছে না। এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে ফেলেছে পরিবহন মালিকরা। এখানে প্রশাসনেরও কোনো হস্তক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না।

যানজটের ব্যাপারে জানতে নাওজোড় হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কয়েকজন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। যানজট বেঁধেছে এটা দেখার জন্য অন্য পুলিশ রয়েছে।

এদিকে চন্দ্রা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পাশে পুলিশ বসে থাকলেও তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না সড়কে। কয়েকটি পয়েন্টে দিনভর পুলিশ থাকলেও বর্তমানে তাদের উপস্থিতি না থাকার মতো।

এসআই

Link copied!