ফাইল ছবি
নাটোরের বড়াইগ্রামে অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ভুক্তভোগী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রোববার দুপুরে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আসিফ ইকবাল নতুনের স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ভুক্তভোগীর বড় বোন ফারজানা আক্তার অপি জানান, ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একটি পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে। গত এক বছর ধরে ইকবালের আচরণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। পরে জানা যায়, তিনি ১৬ বছর বয়সী শ্যালিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনা জানার পর ইকবালকে বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১০ জানুয়ারি ইকবাল রাজনৈতিক কাজে বাড়ি ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে রাত ১১টার দিকে আমার বাবার বাড়ি আসেন এবং বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। গত সপ্তাহে বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে জানতে পারি, সে তার দুলাভাই দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এরপর গত ৩ এপ্রিল থেকে আকস্মিক নিখোঁজ হয় আমার ছোট বোন।
ফারজানা আক্তার অপি বলেন, এ ব্যাপারে থানায় জিডি করার পর গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমাদের জিম্মায় দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইকবাল ও তার ছোট ভাই মাহবুব এসে জোরপূর্বক বোনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাবা-মার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে আমার বোনকে উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিমের বাবা ও অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার শ্বশুর ওসমান আলী বলেন, ‘আমি আমার দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা ধর্ষক ইকবাল ও তার ভাই মাহবুবের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বাদী ওসমান আলী থানায় মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :