ছবি : প্রতিনিধি
বরিশাল: বরিশালে নারী শিক্ষার্থী সানজিদা কবির আনিতা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত মো. মাইনুল ইসলাম হিমুকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানাধীন ইসলাদী টোল প্লাজার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-৮ সদর কোম্পানির অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব-৮ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর কোম্পানি বরিশালের একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। পরে তাকে কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মাইনুল ইসলাম হিমু ঝালকাঠি সদর থানার কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে বরিশাল নগরীর বগুড়া রোড এলাকার অক্সফোর্ড মিশন প্রাইমারি স্কুলের বিপরীতে নাহার মঞ্জিলের পাশের গলির একটি বাসায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আনিকা বরিশালের সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে তিনি বরগুনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। পরিবারের সঙ্গে নগরীর বগুড়ারোডের মুন্সি গ্রেজ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সানজিদার সঙ্গে অভিযুক্ত মাইনুল ইসলামের প্রায় দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ এপ্রিল সকাল ৯টা ভিকটিম বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে স্বজনরা জানতে পারেন, ভিকটিম অভিযুক্তের বাসায় মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তারা কোতয়ালী মডেল থানাকে অবহিত করেন।
নিহত পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত হিমু পূর্বে একটি হত্যা মামলার আসামি ছিল এবং মাদকাসক্ত ও বখাটে স্বভাবের। পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বগুড়া রোড এলাকার ওই বাসার ৬ষ্ঠ তলায় রাফী মঞ্জিল নামের একটি ফ্ল্যাট থেকে ভিকটিমের নিথর ও জখমী দেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৮ জানায়, ঘটনার পর থেকেই তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্ত এলাকা পরিবর্তন করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৮ সদর কোম্পানির অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র্যাব সবসময় কাজ করছে। এই মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :