ছবি: প্রতিনিধি
নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি রবিউল সিকদার রবিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তারিকুজ্জামান লিটু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল সিকদার রবি নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার শিকদারের ছেলে। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে একা পেয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান রবিউল। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দত্তপাড়া এলাকা থেকে রবিউলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রাতেই রবিউল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে বর্বর এ ঘটনার প্রতিবাদে নড়াইলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন নিহত শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা।
তদন্ত শেষে গত ৪ আগস্ট রবিউলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ১১ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে দ্রুত রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় রবিউলকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত সূত্র অনুযায়ী, মাত্র আট কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণাকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন নিহত শিশুটির স্বজন, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তারা দণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
এসএইচ