ছবি : প্রতিনিধি
পাথরঘাটা: বরগুনার বেতাগী উপজেলায় উত্যক্ত করার অভিযোগ পুলিশকে জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ফয়সাল মৃধা (২৩) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হামলায় ওই ছাত্রীর পাঁচটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল মৃধার মা-বাবাসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তার মা মোসা. শিরিনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান অভিযুক্তসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ফয়সাল মৃধা উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে। তিনি ভুক্তভোগী ছাত্রীর দূরসম্পর্কের মামা বলে জানা গেছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই ছাত্রী বাড়ির বাইরে থাকা টয়লেটে গেলে দরজার ফাঁক দিয়ে ফয়সাল তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে শিশুটি। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে ফয়সাল সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর শিশুটির মা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বেতাগী থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিসের ভাষ্য, সালিশের সময় ফয়সালের মা পুলিশে অভিযোগ করার কারণে তাদের এর ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর দুই দিন পর সোমবার স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তার পরিবার ও সহপাঠীরা জানায়। তাদের অভিযোগ, গাবতলী এলাকায় ফয়সাল শিশুটিকে রাস্তায় আটকে ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যায়।
সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, ফয়সাল বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে তাকে উত্যক্ত করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। শনিবার রাতে টয়লেটে গেলে দরজার ফাঁক দিয়ে তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর সোমবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে আটকে মারধর করা হয়। এতে তার তিনটি দাঁত উপড়ে যায় এবং দুটি দাঁত ভেঙে যায়।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, শনিবারের ঘটনার পর মেয়ের নিরাপত্তা ও প্রতিকারের জন্য তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু এর পরও মেয়েকে রাস্তায় আটকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামি ফয়সালের মা মোসা. শিরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পিএস