উচ্ছেদ অভিযান নাকি লুটপাট: চরাঞ্চলে শত কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

  • মো. পলাশ খান, শরীয়তপুর | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
উচ্ছেদ অভিযান নাকি লুটপাট: চরাঞ্চলে শত কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সীমান্তবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি খাসজমি দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে চাঁদপুরের উপজেলা প্রশাসন। গত ২১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ ঘেরমালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘেরের বাঁধ কেটে মাছ বের করে দেওয়া, স্থাপনা ও মাছের খাদ্য পুড়িয়ে ফেলা এবং গবাদিপশু লুটের ঘটনায় প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের দাবি, অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে ঘের নির্মাণ করায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কোনো ধরনের পূর্বনোটিশ ছাড়াই হঠাৎ এই অভিযান পরিচালনা করায় মাছ ও অন্যান্য সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। ইকবাল মিয়া নামের এক ঘেরমালিকের দাবি, তাঁর ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়ার পাশাপাশি ২৭টি গরু, ৭১টি ছাগল ও ৩০০টি হাঁস লুট করা হয়েছে। 

এ ছাড়া স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর মাঝি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। মাহফুজ মিয়া ও মমিন দিদারসহ অন্য ঘেরমালিকদের চোখে সামনেই তাদের ঘেরের স্থাপনা ও মাছের খাদ্য আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে অভিযান চালানোর এখতিয়ার এবং জমির সীমানা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, দুই এলাকার সীমানা নিয়ে বিরোধ ও মামলা থাকায় নথিপত্র পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। অন্যদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এন এম জামিউল হিকমা জানিয়েছেন, প্রশাসন কোনো লুটপাট করেনি; স্থানীয় ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরের অংশ অন্য জেলার সীমানায় পড়লে দুই জেলার জেলা প্রশাসকেরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সরকারি জমি উদ্ধারের এই অভিযানে অনিয়ম, সম্পদহানি এবং লুটপাটের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো সুরাহা এখনো হয়নি।

এসএইচ 

Link copied!