লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

ছবি : প্রতিনিধি

লালমনিরহাট: সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। এ সময়  ডিলারদের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ তুলেন তারা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে অবরোধের ফলে সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সৃষ্টি হয় যানজট। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

খবর পেয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপন মিত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এসময় কৃষকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আছে। যাদের সার কার্ড রয়েছে, তারা সবাই সার পাবেন। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কৃষকরা আমাদের কথা শুনেছেন এবং তাদের কার্ড জমা দিয়েছেন। কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সার বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।

তবে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় স্থানীয় ‘জাদু মেম্বার’ ও ‘ভুট্টু’ নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে উপজেলায় একটি প্রভাবশালী সার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে এই সিন্ডিকেট নিজেদের পছন্দের মানুষদের ১০-১২ বস্তা করে সার দেয়, সার নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে বিক্রি করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সারের দেখা পাচ্ছেন না। সারের চরম সংকটে বাধ্য হয়ে কৃষকরা মহাসড়কে নেমেছেন।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল  বলেন, যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কিভাবে আবাদ করবো? পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি, তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমেছি।

একই ইউনিয়নের চরাঞ্চল ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ডিলারের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করে খোলাবাজারে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে কালোবাজারে সার বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভুট্টা চাষে সারের গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, আগাম ভুট্টা চাষের এই সময়ে ঠিকমতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায় এবং ফলন চরমভাবে ব্যাহত হয়। পুরো বছর তাদের সংসার চলে এই ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর। ফলে সময়মতো সার না পেলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, কৃষি বিভাগে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রয়োজনে আগামী মাসের বরাদ্দ থেকে সার দেওয়া হবে। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ চলছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে তা শেষ হবে। কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিএস

Link copied!