ফাইল ছবি
গাজীপুর: আসন্ন ঈদুল আজহার বাকী আছে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ। এরই মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষদের যাত্রা পথে দেশের মহাসড়ক গুলোতে ভোগান্তি ও যানযটের কষ্ট কমিয়ে ঈদ যাত্রায় স্বস্তি দিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবার তারই অংশ হিসেবে বিশেষ এক ঘোষণা আসছে বিআরটি প্রকল্পের।
যেহেতু গাজীপুর-টঙ্গী-উত্তরা-বিমানবন্দর করিডোরে ২০ কিলোমিটার বিআরটি (বাস র্যাপিড ট্রানজিট) লাইনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। তাই এ অংশে যদি ফ্লাইওভার যুক্ত করা যায়। তাহলে ঈদের সময় রাজধানী ঢাকা থেকে বের হতে ঘরমুখো মানুষদের যানজটের ঝামেলা পোহাতে হবে না। এ বিষয়টি বিবেচনা করে বিআরটি (বাস র্যাপিড ট্রানজিট) কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আর এ বিশেষ ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
এরইমধ্যে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে টঙ্গী স্টেশন পর্যন্ত প্রকল্পের ফ্লাইওভারের একাংশের উদ্বোধন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
অপর দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পের অপর অংশ হাউজ বিল্ডিং থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার এলিভেটেড ফ্লাইওভারও ঈদুল আজহার আগে খুলে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, ঈদের সময় যাতে মহাসড়কে দুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়। গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাসের কোন ধরণের অসহনীয় যানজটের ঝামেলায় না পড়ে এ জন্য ঈদ সামনে রেখে বিমানবন্দর ফ্লাইওভারের দুদিকে যান চলাচল শুরুর বিষয়ে মন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী কাজও চলছে জোরেশোরে। ঈদের আগেই বিমানবন্দর সড়কের উভয়পাশ ও জসিমউদদীন সড়ক-সংলগ্ন রুটও খুলে দেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং যাত্রা পথেও স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিআরটি, সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দর পরিপাটি আরামদায়ক, ব্যয়সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, আধুনিক, টেকসই ও নিরাপদ নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ সম্পাদন করছে। এসব উন্নয়নমূলক কাজের অন্যতম একটি প্রকল্প বিআরটি প্রকল্পের কাজ।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র গাজীপুর শিল্পাঞ্চল। এ জন্য রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের উন্নয়নও একীভূত করার লক্ষে বিআরটি প্রকল্পের কাজ গাজীপুর অংশে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর এ সংযোগের সুফল ইতি মধ্যে এ শিল্প অঞ্চলের জনসাধারণ পেতে শুরু করেছেন।
গাজীপুর-টঙ্গী-উত্তরা-বিমানবন্দর করিডোরে বিআরটি লাইন নির্মাণ করা অতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। হাউজ বিল্ডিং থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার এলিভেটেড ফ্লাইওভার ও সেতু। এর মধ্যে সাড়ে তিন কিলোমিটার ছয় লেনের সড়ক। এক কিলোমিটার দুই লেনের সড়ক।
ছয়টি এলিভেটেড স্টেশন ও একটি ১০ লেনের টঙ্গী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এ রুটে চলাচলের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হবে ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস। এসব গাড়ি কখনো মাটি ঘেঁষে আবার কখনো এলিভেটেড সড়কে চলাচল করবে। এ র্যাপিড ট্রানজিট লাইন চালু হলে দুর্ভোগের ঢাকা-গাজীপুর সড়ক মাত্র ৪০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে। এ রুটে বাস মিলবে দেড় থেকে তিন মিনিট পরপর। এতে করে ঢাকা মুখী অফিস গামী এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকা অভিমুখী আসা জনসাধারণ গাজীপুর হয়ে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে যাবেন। কোন রকম দুর্ভোগ ছাড়াই।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: ইসহাক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার সব সময় নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে মহাসড়কে ভোগান্তি লাগবে। তারই অংশ হিসেবে জনসাধারণের সুবিধার্থে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনা রয়েছে, যাতে ঈদের আগেই বিআরটি লেনের কিছু অংশ খুলে দেওয়া হয়।
এতে করে যাত্রা পথে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষেরা। তিনি বলেন, মন্ত্রীর সেই নির্দেশনার আলোকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা রাত-দিন নিরলস পরিশ্রম করছেন। আশা করছি, দ্রুত উত্তরার জসিমউদদীন সড়কের অংশ ও বিমানবন্দর সড়কের উভয়পাশ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, এ অংশে ফ্লাইওভার খোলা গেলে ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষদের অনেকাংশে ভোগান্তি কমে আসবে।
সোনালীনিউজ/এম
আপনার মতামত লিখুন :