ঢাকা: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এজিএম নাসির উদ্দিন রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন ডিএসইর সদ্য চাকরিচ্যুত মরিয়ম আক্তার টিনা। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১১ টায় এ বিষয়ে তিনি খিলক্ষেত থানার সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী মরিয়ম টিনাকে দেওয়া নাসির উদ্দিন রেজার মেসেজ এবং কলের স্ক্রীনশর্ট সোনালী নিউজের হাতে এসেছে। এছাড়াও ডিএসইর এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ের সত্যতা পেয়েছেন এই প্রতিবেদক।
এদিকে অভিযোগে মরিয়ম টিনা উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে ডিএসইর মনিটরিং বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর তৎকালীন সরাসরি সুপারভাইজার নাসির রেজা তাঁর সামাজিক অবস্থান (সিঙ্গেল মাদার) ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও উত্যক্ত করা শুরু করেন। অসময়ে বার্তা পাঠানো, ভিডিও কল দেওয়া এবং পরোক্ষ ইঙ্গিত দেওয়ার পর একপর্যায়ে অফিস ক্যান্টিনের সামনে তাঁকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিষয়টি তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান (বর্তমানে অ্যাক্টিং সিআরও) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বাধ্য হয়ে তৎকালীন সিআরও জিয়াউল হাসান খানের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানালে তিনি ঘটনার সত্যতা বিবেচনা করে নাসির রেজা ও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ডেকে সতর্ক করেন। এরপর থেকে নাসির রেজা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে নাসির রেজা প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনিক সহায়তায় মানবসম্পদ বিভাগে (এইচআর) বদলি হয়ে আসেন। সেই পদের সুযোগ নিয়ে কোনো কারণ দর্শানো বা সতর্কবার্তা ছাড়াই কেবল প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ছাঁটাই তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত করে দেন।
মরিয়ম টিনা বলেন, “একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে ঢাকা শহরে সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমার চাকরিটিই ছিল একমাত্র সম্বল। কাজের কোনো ত্রুটি ছাড়া কেবল কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা মানবধিকার ও শ্রম আইনের চরম লঙ্ঘন।”
তিনি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, মানবিক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে চাকরি পুনর্বহাল এবং ডিএসইতে নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ডিএসইতে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় অন্যায্য চাকরিচ্যুতির অভিযোগ: স্বপদে পুনর্বহাল ও বিচারের দাবিতে সিএমজেএফ ও বিএসইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, কর্মজীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কাজ বা শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোনো অনিয়ম কিংবা গাফিলতির অভিযোগ ছিল না। ডিএসই কর্তৃপক্ষও কখনো তাঁকে কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে সোনালী নিউজের প্রতিবেদক নাসির উদ্দিন রেজাকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন উত্তর দেননি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফুরাত আল হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী একটি অভিযোগ করেছে। আমাদের এক তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছে, তদন্ত শেষে এ বিষয়ের প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এএইচ/পিএস