এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ, বিপদে পড়বেন যারা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:২০ এএম
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ, বিপদে পড়বেন যারা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে শিক্ষকতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলার ৩৬ হাজারের বেশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সনদ যাচাই করা হবে।

প্রাথমিক ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা—এই তিন জেলা নির্বাচন করা হয়েছে। এসব জেলার সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য ও নিবন্ধন সনদ সবার আগে যাচাই করা হবে। পরে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক ফয়জার আহমেদ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাল নিবন্ধন সনদ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাল সনদধারী শনাক্তে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পাইলটিং কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাই করা হবে।

এনটিআরসিএ’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জাল সনদধারীদের বিষয়ে সরকার কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। যাচাইয়ে কোনো শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গত ৭ জানুয়ারি এনটিআরসিএ’র সদস্য (পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধানসহ সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের এমপিও শিট এবং নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি যাচাই করা জরুরি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ছকে এসব তথ্য ডাকযোগে, কুরিয়ার বা বাহকের মাধ্যমে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। পাঠানো নথির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধানের স্বাক্ষরিত অগ্রায়ণপত্র সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।

এনটিআরসিএ সতর্ক করে জানিয়েছে, তথ্য প্রদানে কোনো ধরনের গাফিলতি, তথ্য গোপন বা সনদ টেম্পারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে অবহিত করা হবে।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দেশের সব জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের তাদের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠানো নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এম

Link copied!