দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থের অপেক্ষায় থাকা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯ জন এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচির আওতায় আসছেন। এর আগে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ায় পরে তা ১ লাখ ২৩ হাজার করা হয়।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিচ্ছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, অবসর সুবিধা হিসেবে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রথম ধাপে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন। পর্যায়ক্রমে তাদের বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে।
আর কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে প্রথম ধাপে শিক্ষক কর্মচারীরা পাবেন ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এরপরও কারও বকেয়া থাকলে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা অর্থের সুদ এবং সরকারের থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার মাধ্যমে অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ জোগান দেওয়া হয়।
২০১৯ সাল পর্যন্ত অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তির সময় বছরে একবার ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসর সুবিধা এবং ৩০ টাকা কল্যাণ সুবিধা তহবিলে জমা হয়।
এম