জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, আর বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন- পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। মার্চের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং ৯ মার্চ তা প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে। এরপর থেকে দাম আর ১০০ ডলারের নিচে নামেনি।

১৮ মার্চ ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। জবাবে ইরান কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়, ফলে তেলের দাম আবারও বেড়ে ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী, যা দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। সংঘাত শুরুর পর ইরান এই পথ বন্ধ ঘোষণা করলে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় থেমে যায়।

বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করলেও বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও তা পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও কিছু বিশ্লেষক বলছেন, বিকল্প সরবরাহ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এতটা উল্লম্ফন নাও হতে পারে।

তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ভোক্তারা ব্যবহার কমাতে শুরু করবে—যাকে বলা হয় “ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন”—এতে একসময় বাজারে চাপ কমে দাম স্থিতিশীল হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

পিএস

Link copied!