জাঁকজমকপূর্ণ হলেও অগ্রগতিহীন ট্রাম্প-শি’র বৈঠক

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
জাঁকজমকপূর্ণ হলেও অগ্রগতিহীন ট্রাম্প-শি’র বৈঠক

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকটি জাঁকজমকপূর্ণ হলেও বড় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির নেতাদের বৈঠকে বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সহযোগিতার কথা উঠে এলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে বড় ধরনের সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এর ফলে মার্কিন কৃষক ও পশুপালকদের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার বেড়েছে। একই সঙ্গে দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বৈঠকের পর শুক্রবার শিকে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণা, সংবিধান ও বিল অব রাইটসসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল দেখানোর কথা রয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের স্মারকও তাদের সামনে তুলে ধরা হবে।

তবে বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল তাইওয়ান। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে আসছে। বৈঠকে শি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান প্রশ্নে ‘সতর্কতার সঙ্গে’ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, শি আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র বিরোধিতা করার অবস্থান মেনে চলবে। পাশাপাশি বেইজিং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধেরও দাবি জানিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ওয়াশিংটন দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক। মার্কিন আইনের অধীনে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান ও অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের ক্রেইগ সিঙ্গেলটনের মতে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বর্তমান স্থগিতাবস্থাকে চীন সাময়িক বিরতির বদলে নতুন বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা বৈঠকটির সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে চীনের কাছ থেকে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো অর্থবহ ছাড় আদায় করতে পারেনি। তাইওয়ানের ওপর চীনের সামরিক চাপের বিষয়েও ট্রাম্প প্রকাশ্যে যথেষ্ট অবস্থান নেননি বলে তারা সমালোচনা করেন।

তবে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে আরও যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বৈঠকটি প্রতীকী গুরুত্ব পেলেও বাণিজ্য, তাইওয়ান, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিরোধপূর্ণ ইস্যুতে বড় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এটিকে তাৎক্ষণিক ফলাফলের দিক থেকে সীমিত অগ্রগতির বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিএস

Link copied!