ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর শক্তিশালী ডলারের চাপে দরপতন হয় মূল্যবান ধাতু সোনার। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এই তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নির্ধারণের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে প্রত্যাশা পরিবর্তন করতে পারে।
সোমবার সকালে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৬.৮৬ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে সোনার দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০.৯০ ডলারে দাঁড়ায়।
অ্যাকটিভ ট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, “সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি থাকা ডলারের চাপে সোনা বর্তমানে দরপতনের মুখে রয়েছে। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।”
সোমবার ডলারের বিনিময়মূল্য গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি স্থিতিশীল ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। একই সঙ্গে এ সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন তাঁরা। এসব তথ্য দেশটির মুদ্রানীতিকে প্রভাবিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদন বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য।
ইভানজেলিস্তা আরও বলেন, “প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্য পাওয়া গেলে ফেডারেল রিজার্ভের আরও সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরদার হতে পারে। এতে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার ও ডলারের মূল্য আরও বাড়তে পারে, যা সোনার দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। বিপরীতে, মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কমতে পারে এবং মূল্যবান এই ধাতুর দাম কিছুটা সমর্থন পেতে পারে।”
বাজারে চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা কমেছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ১৮ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন লেনদেনকারীরা। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ বলে মনে করছেন তাঁরা।
উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সোনার পরিবর্তে মুনাফা প্রদানকারী সম্পদে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী হন।
এদিকে, রাশিয়া থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় সোমবার তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মস্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তির পর ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.৬২১৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৮৪.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৪৯.২০ ডলারে পৌঁছেছে।
পিএস