ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: মার্কিন শিক্ষাবিদ রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। সোমবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, তাঁদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে “সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলকরণের ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক ভিত্তি” বিষয়ে কাজের জন্য।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে সুয়েরিয়েস রিক্সব্যাংক পুরস্কার’ নামে পরিচিত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি এ বছরের সর্বশেষ পুরস্কার। এর অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (১২ লাখ মার্কিন ডলার)।
এই দুই বিজয়ী নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করেছেন, যা কার্যকর স্থিতিশীলকরণ নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এর ফলে যথাসময়ে রাজস্ব ও মুদ্রানীতিসংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে, যা অর্থনীতিতে ক্ষতিকর ওঠানামার তীব্রতা কমাতে পারে।
অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রদান কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার এক বিবৃতিতে বলেন, “বিজয়ীদের কাজ এমন মডেলগুলোর জন্য আমাদের একটি স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি দিয়েছে, যেগুলো এখন সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারগুলো ব্যবহার করছে।”
তিনি বলেন, “তাঁদের কাজের ফলে আমরা অর্থনীতিতে বিভিন্ন অভিঘাত—যেমন জ্বালানি সংকট কিংবা পরিবারগুলোর ভোগব্যয়ের পরিমাণে আকস্মিক পরিবর্তন—মোকাবিলায় আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।”
১৯৬৯ সালে প্রথমবার অর্থনীতিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এটি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইলে প্রবর্তিত মূল পাঁচটি পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি প্রতিষ্ঠা করে।
অতীতের অধিকাংশ বিজয়ীই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ পর্যন্ত মাত্র তিনজন নারী এই পুরস্কার পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ক্লডিয়া গোল্ডিন যুক্তরাষ্ট্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মজুরি ও কর্মসংস্থানের ওপর লিঙ্গের প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কারটি পান।
ক্ল্যারিভেটের অংশ ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্টিফিক ইনফরমেশনের বিশ্লেষণে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে মুদ্রানীতি, তথ্যপ্রযুক্তির অর্থনীতি এবং বিবর্তনীয় অর্থনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে কাজ করা গবেষকদের নাম উঠে এসেছিল।
গত বছরের বিজয়ী জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিওঁ ও পিটার হাউইট ‘সৃজনশীল ধ্বংস’ এবং কীভাবে নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদনপদ্ধতি প্রবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে পারে, সে বিষয়ে কাজের জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার গত সপ্তাহে ঘোষণা করা হয়েছে।
পিএস