টানা চতুর্থ দিন কমলো স্বর্ণের দাম

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
টানা চতুর্থ দিন কমলো স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে টানা চার দিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে স্বর্ণের দাম। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠককে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ডলার স্থিতিশীল হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদাও কিছুটা কমেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারের দামও ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৬ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়ায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

ডিএইচএফ ক্যাপিটাল এসএর প্রধান নির্বাহী ও সম্পদ ব্যবস্থাপক বাস কুইজম্যানের মতে, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি স্বর্ণের বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, জ্বালানির ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনাও জোরালো হয়।

ফেডের বৈঠকের দিকে নজর বিনিয়োগকারীদের

স্বর্ণের বাজারে দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তাকে। আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে বাজারে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদ ধারণা করছেন, অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে পারে। তবে ডিসেম্বরে আবারও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাজারে ১৬ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে বলে ধারণা করছিলেন বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

সাধারণত সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হলে স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ, স্বর্ণ থেকে সুদ পাওয়া যায় না। বিপরীতে সুদযুক্ত সম্পদ থেকে আয় করার সুযোগ থাকায় বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমতে পারে।

তেলের দাম ও ডলারের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের সূচক স্থিতিশীল হয়েছে। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান সাধারণত অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণকে তুলনামূলক ব্যয়বহুল করে তোলে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমার আশঙ্কা থাকে।

তবে বাজার পরিস্থিতি বদলালে স্বর্ণের দাম আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। টেস্টলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাকের মতে, ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমে এলে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডের পছন্দের সূচক এটি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। নতুন এই তথ্য সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও

স্বর্ণের পাশাপাশি বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে।

স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৪ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৮ ডলার ৬১ সেন্ট হয়েছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯০ ডলার ৮৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

এম

Link copied!