ডিসি-কমিশনারদের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৫ মেগাওয়াটের বেশি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ডিসি-কমিশনারদের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৫ মেগাওয়াটের বেশি

ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা গেলে সরকারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

তবে নেট মিটারিং চালু না হওয়ায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয়ের সুবিধা এখনো পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা চার হাজার ৬৬৩ কিলোওয়াট। আর পাঁচটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সক্ষমতা ৪০৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট। সব মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ হাজার ৬৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা প্রায় ৫ দশমিক ০৭ মেগাওয়াট।

এ কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কার্যালয়গুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা স্থাপন করা হলেও নেট মিটারিংয়ের অনুমোদনসহ কিছু প্রক্রিয়া এখনো চলমান। নেট মিটারিং চালু হলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) তথ্য অনুযায়ী, কার্যালয়টির মাসিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিট। সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা চালুর পর প্রতি মাসে প্রায় ৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে নেট মিটারিংয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয় শুরু হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে দরপত্র আহ্বান করা হলেও সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা স্থাপন করা যায়নি। খুলনার চুয়াডাঙ্গায় বরাদ্দের তুলনায় দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্য বেশি হওয়ায় কাজ এগোয়নি।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভাড়া ভবনে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা স্থাপন সম্ভব হয়নি।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, এ সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা জাতীয় পর্যায়ে খুব বড় অবদান না রাখলেও কার্যকর ব্যবহার অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে দৃষ্টান্ত হতে পারে। নেট মিটারিংয়ে দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সংযোগ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
 
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট আসার কথা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা এক হাজার ৬৪২ মেগাওয়াট।

এসআই

Link copied!