ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি চলতি বছরের শুরু থেকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পে স্কেল সংশোধনের কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সরকারি গেজেট প্রকাশ পেতে দেরি হওয়ায় চাকরিজীবীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গেজেট প্রকাশে দেরির মূল কারণ হলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় বৈঠক ও অনুমোদনের বিলম্ব। এছাড়া অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ও বাজেট সংক্রান্ত তথ্যের যাচাই প্রক্রিয়াও সময়সাপেক্ষ। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গেজেট প্রকাশে দেরি শুধুমাত্র চাকরিজীবীদের জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করছে না, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট প্রণয়ন ও মাসিক খরচ হিসাবেও প্রভাব ফেলছে। সংশোধিত পে স্কেল কার্যকর না হওয়ায় কিছু সরকারি দপ্তরের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি বা অন্যান্য সুবিধা সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে অনেকে অভিযোগ করছেন, “গেজেট ছাড়া নতুন বেতন কার্যকর করা যায় না। এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে কর্মদক্ষতা কমে যায় এবং মানসিক চাপও বৃদ্ধি পায়।”
অর্থনীতি ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুত গেজেট প্রকাশে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দ্রুততা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থনৈতিক তথ্য যাচাই এবং সময়মতো অনুমোদনের মাধ্যমে এমন দেরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সরকারি ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দেরি একটি প্রশাসনিক জটিলতা হলেও এটি সমাধানযোগ্য। নিয়মিত আপডেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে একই ধরনের বিলম্ব এড়ানো সম্ভব।
গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সরাসরি সরকারি বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার কারণে চাকরিজীবী ও তাদের পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব সুস্পষ্ট। তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে সরকারি কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :