ফাইল ছবি
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটি রাষ্ট্রপতির। সংবিধানে তাঁকে দেশের অন্য সব ব্যক্তির ওপরে স্থান দেওয়া হলেও সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় তিনি মূলত রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান নন। ফলে মর্যাদার দিক থেকে পদটি সর্বোচ্চ হলেও তাঁর বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাইরে গিয়ে মাত্র দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। এর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
জাতীয় সংসদে কোনো রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় প্রধানকেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সব বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতির আরেকটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হলো সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দণ্ড মার্জনা, স্থগিত বা মওকুফ করার অধিকার।
দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির পূর্ণ সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। পদাধিকারবলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাঁকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারি করা অসম্ভব। তবে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অভিশংসনের মাধ্যমে অথবা শারীরিক-মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তাঁকে অপসারণের স্পষ্ট বিধান সংবিধানে রাখা হয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির বয়স ন্যূনতম ৩৫ বছর হতে হয় এবং তিনি জনগণের সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতির জন্য বঙ্গভবনের মতো বাসভবন, আপ্যায়ন ভাতা, পরিবারের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিলসহ নানা সরকারি সুবিধা বরাদ্দ থাকে। দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট অনুযায়ী বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক আয়করমুক্ত বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
দায়িত্ব ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা ভোগ করেন। সর্বোপরি, সরকারের মূল নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকলেও দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদটির তাৎপর্য অপরিসীম।
এসএইচ