জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

দেশ মেরামতে থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে সরকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৬:২৭ এএম
দেশ মেরামতে থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেয়া তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায়  গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।’

তিনি জানান, ‘দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী।  ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন।  নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং  নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।  নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য সরকার নগদ অর্থায়নের সুযোগ  সম্প্রসারিত করেছে।  স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে  শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ‘‘সুন্দরবনে’’ মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষনের জন্য  তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘‘পদ্মা ব্যারেজ’’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে।   একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে  অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি  আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার  প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে  সরকার ১৯৯২ সালের ‘‘ওয়াটার কনভেনশন’’ স্বাক্ষর করেছে।
 
এম

Link copied!