• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

পুষ্টিবাগানে মিটছে সবজির চাহিদা


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪, ০৮:১৯ পিএম
পুষ্টিবাগানে মিটছে সবজির চাহিদা

ছবি প্রতিনিধি

ঈশ্বরদী: পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে অনাবাদি পতিত  জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় পারিবারিক পুষ্টি বাগানের গুরুত্ব বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার গোপালপুর গ্রাম এলাকায় মোহাম্মদ আলীর পুষ্টিবাগান চত্বরে সহকারী অধ্যাপক ও কৃষক  আলমাস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার।

বক্তারা বলেন, পারিবারিক পুষ্টিবাগান পরিবারের পুষ্টির অভাব ও শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ে শরীরে শক্তির যোগান দেয়। বৈঠকে আসা ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোকুলনগর এলাকার কৃষানি টিটু খাতুন জানান,   নিজের দেড় শতাংশ জমিতে করেছেন পারিবারিক পুষ্টি বাগান। সেই বাগানের উৎপাদিত সবজি থেকে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে কিছু শাক-সবজি বিক্রি করেন বাজারে।

টুটুর মত পারিবারিক পুষ্টি বাগান করেছেন একই ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী। সেখান থেকে উৎপাদিত সবজি দিয়ে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রির পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও দেন তিনি। আগে প্রতি মাসে বাজার থেকে শাক সবজি কিনতে যে টাকা খরচ হতো তা পুরোটাই এখন সঞ্চয় হয় মোহাম্মদ আলীর।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধু টিটু খাতুন বা মোহাম্মদ আলী নয়, ঈশ্বরদী উপজেলায় কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এমন পারিবারিক পুষ্টি বাগান করেছেন উপজেলার ২১৬টি পরিবার। আরও ১১৯টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এসব পুষ্টি বাগান থেকে প্রতিবছর উৎপাদিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার সবজি। ফলে পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবারগুলোতে বাড়ছে স্বনির্ভরতা।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন ও পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর লক্ষে ২০২০-২১ অর্থ বছরে এ রকম পারিবারিক পুষ্টি বাগানের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সারাদেশে ৫ লাখ পুষ্টি বাগান তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ফলে সারাদেশের কমপক্ষে ৫ লাখ পরিবার নিরাপদ সবজি খেতে পারবে। পাশাপাশি পরিবারগুলোর সাশ্রয় হবে মোটা অঙ্কের অর্থ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক এসব বাগানে চাষ হচ্ছে শিম, মরিচ, শাক, লাউ, কুমড়া, মিষ্টি আলু। সুভিধাভোগীরা বলছেন প্রতিটি বাগান থেকে বছরে প্রায় ২০০ কেজির বেশি শাক সবজি উৎপাদন সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এসব পুষ্টি বাগান থেকে ৩-৪০ শতাংশ পুষ্টি ও ৪-৩২ শতাংশ প্রোটিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। আর দেড় শতাংশ জমির সবজি বাগানে বছরে ২০০ কেজি সবজি উৎপাদন হলে উপজেলায় ২১৬ টি পারিবারিক পুষ্টিবাগান থেকে সবজি বাগানের উৎপাদিত সবজির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৩ হাজার ২ শত কেজি। প্রতিকেজি সবজি গড়ে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলে এর বাজার মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ফলে সরকারের পুষ্টি বাগানের আওতায় থাকা পরিবারগুলোর সাশ্রয় হচ্ছে বৃহৎ অংকের টাকা।

উপজেলার গোপালপুর এলাকার কৃষক আন্টু আলী বলেন, বাগানে লাল শাক, পুঁই শাক, কচু শাক আছে। এগুলা নিজে খাই, প্রতিবেশিদের দেই আবার বিক্রিও করি। বেগুন, কাচা মরিচ বিক্রি করেছি।

একই এলাকার মোহাম্মদ আলী বলেন, আগে মাসে ২-৩ হাজার টাকার শাক-সবজি কেনা লাগতো, এখন লাগে না। এখন সেটা বাগান থেকে পাচ্ছি এবং টাটকা খাবার খাচ্ছি। তাতে আমরা ভালো আছি।মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকার নির্দেশনা মোতাবেক তিনি বিষমুক্ত সবজি বাগান করেছেন। অবসর সময়ে তিনি বাগানের পরিচর্যা করেন। তার বাগানে উৎপাদিত সবজি তার ও অন্যের পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছে।

উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের ইলশামারী এলাকার কৃষানি আরিনা খাতুন নামের আরেকজন  বলেন, পুষ্টি বাগানে এখন ডাটা শাক, কলমি শাক, লাল শাক, শিম ও বেগুন আছে। বাগান থেকে উৎপাদিত শাক-সবজি আমরা খাই, প্রতিবেশিদের দেই।

তিনি আরও বলেন, এখানে বেশি জমির প্রয়োজন হয় না।অল্প জমিতে অনেক সবজি চাষ করা যায়। অনুরোধ করবো এমন একটি নিরাপদ সবজি বাগান যেন সবাই করে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, ঈশ্বরদীতে  ২১৬টির বেশি পুষ্টি বাগান আছে। এসব বাগান থেকে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি শাক সবজি বিক্রিও করছেন অনেকে। ফলে তারা আর্থিকভাবেও লাভোবান হচ্ছেন। প্রদর্শনীর  প্রতিটি বাগানের জন্য বিভিন্ন পদের সবজি ও  ফলের বীজ, ১ বস্তা জৈব সার, ঘেরার জন্য জাল (নেট) ও পানি দেওয়ার জন্য ঝাজরি প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগে যে জমিগুলো পতিত থাকতো, সেটা কিন্তু পুষ্টি বাগানের মাধ্যমে চাষের আওতায় আসছে।পুষ্টির চাহিদা পুরণেই সরকারের এ প্রকল্প। বৈঠক শেষে উপস্থিত  প্রত্যেক কৃষক কৃষাণীকে একটি প্লেট ও দুইটি করে ফলোবান গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

উঠান বৈঠকে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার (এসএপিপিও) মো. এখলাছুর রহমান, সাঁড়া ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বগা, কৃষক মোহাম্মদ আলী, উপজেলার আড়মবাড়িয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার (এসএএও) আব্দুল আলীম, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

ওয়াইএ

Wordbridge School
Link copied!