• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১

নলকূপ ভাংচুরের ঘটনা বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিএডিসি


লালমনিরহাট প্রতিনিধি মে ২৫, ২০২৪, ০৫:২৮ পিএম
নলকূপ ভাংচুরের ঘটনা বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিএডিসি

ছবি : প্রতিনিধি

লালমনিরহাট: সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বড়ুয়া গ্রামে সরকারি সেচ প্রকল্প গভীর নলকূপ দখলের চেষ্টায় ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগের দায়েরের এক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। গেলো বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে কৃষকদের ক্ষেতে পানি দেওয়া বন্ধ রেখে নলকূপের আউটলেট ভেঙে অবৈধভাবে জোর পূর্বক ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরে পানি নেয় রতন নামে স্থানীয় উশৃংখল এক যুবক।

এদিকে ওই ঘটনায় গত বছরের ২ ফেব্রুায়ারির উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিএডিসি সেচ লালমনিরহাট রিজিয়ন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বড়ুয়া গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোকুল রায়।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে ওই বড়ুয়া গ্রামে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প থেকে গ্রামের শতাধিক কৃষক স্বল্প খরচে গভীর নলকূপ ব্যবহার করে জমিতে সেচ দিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় ওই সরকারি গভীর নলকূপের পাশে অবৈধভাবে বোর্ডিং করে পানির মোটর বসানো অপকৌশলে লিপ্ত হয় ওই এলাকার মৃত ত্রৈলক্ষ বর্মনের ছেলে  রনবীর কুমার বর্মন ওরফে রতন। উশৃংখল যুবক রতন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গত বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশীয় অস্ত্রসহ তার বাহিনী নিয়ে বরুয়া গভীর নলকূপের ঘরে তালা দিয়ে তা অবৈধভাবে দখলে নেয় এবং কৃষকদের সেচ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এমন অবস্থায় কৃষকরা বিক্ষুব্ধ এক হয়ে সেই গভীর নলকূপ পুনরায় দখলে নেয় এবং সেচ কার্যক্রম চালু করে।

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বিকালে আবারো জোর করে কৃষকদের জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ রেখে ওই গভীর নলকূপের আউটলেট ভেঙে নিজের শুকনো পুকুর পানি দিয়ে ভরাট করে রতন। পরে এ ঘটনায় ওই সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোকুল রায় কৃষকদের পক্ষে গত বছরের ২ ফেব্রুায়ারি উপসহকারী প্রকৌশলী বিএডিসি সেচ লালমনিরহাট রিজিয়ন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরে সরোজমিন তদন্তে বিএডিসি সেচ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত রনবীর কুমার বর্মন ওরফে রতনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। প্রথম দফা নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিএডিসি অফিস রতনকে দ্বিতীয় দফায় কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়। কিন্ত অভিযুক্ত রতন দ্বিতীয় বারও সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন ২০১৮ এর ৩০ (ঙ) অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত কোন অবকাঠামো বা স্থাপনা এবং কর্পোরেশনের ভূমি বা অন্য কোন সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেন তা হইলে তিনি অনধিক ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ডে বা অনধিক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হইবেন। কিন্ত সরকারি সম্পদ নষ্টের ঘটনায় সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিএডিসি। এতে ওই নলকূপের আওতায় চাষাবাদ করা কৃষকরা সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। 

এব্যাপারে বিএডিসি সেচ লালমনিরহাটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহায়মেনুল হক মুঠোফোনে, 'ঘটনার তদন্ত চলছে' বলেই ফোন কেটে দেন। দ্বিতীয় দফায় কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

এসআই

Wordbridge School
Link copied!