• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১

টেলিযোগাযোগ খাতে মুনাফা বেড়েছে ২ কোম্পানির, কমেছে ১টির


নিজস্ব প্রতিবেদক  মে ৩০, ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
টেলিযোগাযোগ খাতে মুনাফা বেড়েছে ২ কোম্পানির, কমেছে ১টির

ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের অধিকাংশ কোম্পানির আলোচ্য বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বেশিরভাগ মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এসেছে। বিশেষ করে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (সিম) কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফায় বড় পরিসরে বেড়েছে। 

কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানির সংখ্যা ৩টি। কোম্পানিগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পি এলসি (বিএসসিসিএল), গ্রামীণফোন লিমিটেড ও রবি আজিয়াটা লিমিটেড। এর মধ্যে বিএসসিসিএলর হিসাব বছর গণনা করা হয় জুলাই-জুন সময়ে এবং বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটার হিসাব বছর গণনা করা হয় জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে। আলোচিত তিন কোম্পানিই তাদের সর্বশেষ প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অর্থবছরের সঙ্গে মিল রেখে হিসাব বছর গণনা করা বিএসসিসিএলের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রাজস্ব আয় হয়েছে ৯৭ কোটি ২০ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১২৬ কোটি ৫৯ টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। শতকরা হিসেবে যা বেড়েছে ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। 

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ৩৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আলোচ্য প্রান্তিকে বিএসসিসিএলের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৪৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৪ টাকা। চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ১৬ পয়সায়।

২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বিএসসিসিএলের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১৬৪ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৫ হাজার ৫১০। এর মধ্যে সরকারের কাছে রয়েছে ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৬৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৩ হাজার ৯৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আয় করেছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১৯৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। শতকরা হিসেবে যা বেড়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে এ মুনাফা ছিল ৭৭৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অথা’ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ৫৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

আলোচ্য প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ৯ টাকা ৯১ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে যা হয়েছিল ৫ টাকা ৭৭ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৩০ পয়সায়।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতেই রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১ দশমিক ২২ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ২ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাতের আরেক বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটার চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১৬৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। শতকরা হিসেবে যা বেড়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২ কোটি ৩ লাখ টাকা। অথা’ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৬৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বা ১৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আলোচ্য প্রান্তিকে রবি আজিয়াটার ইপিএস হয়েছে ২০ পয়সা। এর আগের বছরের একই প্রান্তিকে যা হয়েছিল ৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৯৬ পয়সায়।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রবি আজিয়াটার অনুমোদিত মূলধন ৬ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৫। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

এমএস

Wordbridge School
Link copied!