• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে যা যা করা বারণ


স্বাস্থ্য ডেস্ক অক্টোবর ১৪, ২০২৩, ১২:১৮ পিএম
স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে যা যা করা বারণ

ঢাকা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে স্ট্রোক মৃত্যুর জন্য বিশ্বের প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে স্ট্রোকের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে স্ট্রোক হয়। এটি বিভিন্ন ধরণের দুর্বল পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। এই ব্যাঘাতের ফলে মস্তিষ্কের কোষে অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হতে পারে, যার ফলে মৃত্যু হতে পারে। স্ট্রোক শরীরের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সঠিক জীবনধারা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্ট্রোক কি : স্ট্রোক বা ব্রেন অ্যাটাক মস্তিষ্কে হঠাৎ করে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণের কারণে হয়ে থাকে। ফলে মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ কাজ করা বন্ধ করে দেয় বা মারা যেতে পারে। আর মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষগুলি মারা গেলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা শরীরের অঙ্গগুলির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা হারিয়ে যায়। এর ফলে দেখা দেয় প্যারালাইসিস।

স্ট্রোকের কারণ : চিকিৎসকদের মতে, ব্যায়ামের অভাব, অ্যালকোহল পান, খাদ্য, স্থূলতা, ধূমপান, মাদকের ব্যবহার এবং মানসিক চাপের মতো জীবনযাত্রার বিভিন্ন কারণ স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে।

এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাইপারলিপিডেমিয়া এবং কার্ডিয়াক রোগের মতো অন্যান্য সমস্যাও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্ট্রোকের লক্ষণ

স্ট্রোকের লক্ষণগুলি হার্ট অ্যাটাকের মতো নাও হতে পারে। তবে ফলাফলগুলি জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

মুখ, বাহু বা পায়ের হঠাৎ অসাড়তা বা দুর্বলতা, বিশেষ করে শরীরের একপাশে।

হঠাৎ বিভ্রান্তি, কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা।

হঠাৎ এক বা উভয় চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া।

হঠাৎ করে হাঁটতে সমস্যা, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য বা সমন্বয় হারানো।

কোনো অজ্ঞাত কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা।

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে যা যা করবেন না

বেশিরভাগ সময় বসে থাকা : বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই কাজের জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে বসে বসে কাজ করেন। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। নিয়মিত ব্যায়াম ব্যতীত দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস হতে পারে, এগুলি সবই স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

অস্বাস্থ্যকর ডায়েট : আমাদের নিয়মিত খাবারে দিন দিন ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণ বেশি থাকে। এই খাবারগুলিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হাইপারটেনশনে অবদান রাখে, উভয়ই স্ট্রোকের ঝুঁকির প্রধান কারণ।

তামাক এবং অ্যালকোহল সেবন : ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। তামাক রক্তনালীকে সংকুচিত করে এবং ক্ষতি করে, যেখানে অত্যধিক অ্যালকোহল পান উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হৃদযন্ত্রের ছন্দের কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ : আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ মারাত্মক আকার নিয়েছে। তা কাজ, আর্থিক চাপ বা ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ থেকে হোক না কেন। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ধূমপান এবং অতিরিক্ত খাওয়ার মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে উৎসাহিত করে। এতে ব্লাড প্রেশারও বাড়তে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব : নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে, এগুলি সবই স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণ।

পরিবেশগত কারণ : নগরায়ণ এবং শিল্পায়ন বায়ু দূষণের এক্সপোজার বৃদ্ধি করেছে। ধোঁয়া, কারখানা এবং অন্যান্য উৎস থেকে সূক্ষ্ম কণা পদার্থ শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্ট্রোকের ঝঁকি এড়াতে আমাদের অবশ্যই কোনও সতর্কতা লক্ষণ উপেক্ষা করা উচিত নয় এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অবস্থার প্রাথমিক রোগ নির্ণয় স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!