ফেনীতে ২১ বছর ঝুলে আছে হত্যা মামলা, বিচারের অপেক্ষায় নুর উদ্দিনের পরিবার

  • ফেনী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ফেনীতে ২১ বছর ঝুলে আছে হত্যা মামলা, বিচারের অপেক্ষায় নুর উদ্দিনের পরিবার

ফেনীতে আলোচিত নুর উদ্দিন হত্যা মামলা দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে ঝুলে আছে। ২০০২ সালে অপহরণের পর কুপিয়ে হত্যার শিকার পরিবার এখনও বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে মোল্লা ফারুক ও মো: হেলাল জামিনে বের হয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। ঝুলে রয়েছে বিচার প্রক্রিয়া। নিহত নুর উদ্দিনের বাবা ডা: এছহাক হোসেন জীবিত থাকাকালে মামলাটি গতি থাকলেও মৃত্যুর পর মামলার ধীরগতি। পরিবারের সদস্যরা মামলার বিষয়ে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখতে পারছেন না বলেও জানান।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৫ জুলাই রাতে ফেনী সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের ডা: এছহাক হোসেনের ছেলে নুর উদ্দিনকে নিজ বসতবাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর, ২৮ জুলাই নুর উদ্দিনের বাবা আদালতে নজরুল ইসলাম ওরফে মোল্লা ফারুকসহ ৪জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নুর নবী ও আবদুল হাইয়ের তত্বাবধানে তৎকালীন ফেনী মডেল থানার ওসি আজিজুর রহমান ২০০৩ সালের ৩০ জুন পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৫ সালের ৭ মে আদালত পেনাল কোডের ৩৬৪/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের প্রায় ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রপক্ষ এ পর্যন্ত মাত্র আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পেরেছেন। বাকী ১২ জন সাক্ষীকে এখনও আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। মামলার ২জন অভিযুক্ত বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং ৩জন পলাতক। মামলার
১নং অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে নজরুল ইসলাম ওরফে লাদেন ফারুক ওরফে ফারুক মোল্লা। তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মাস্টার রুহুল আমিনের ছেলে।
 
নিহতের নুর উদ্দিনের ভাই গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘‘আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে আছে। মামলা পরিচালনার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। বিভিন্ন সময় হুমকির মুখেও পড়েছি। মামলার অনেক বিষয় আদালতে বিচারাধীন থাকায় প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলতে ভয় পাই। ওই সময় আসামিরা আমার বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা না চালানোর জন্য স্টাম্পও নিয়েছিল। আমার বাবা ২০০৯ সালে মারা যান। আমরা নিরীহ মানুষ, আর তারা প্রভাবশালী। এখন যেহেতু মামলাটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, আদালত ন্যায় বিচার করবে এই আশায় আছি।’’

অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মিজানুর রহমান সেলিম বলেন, ‘‘আমি গত ৫ আগস্টের পর নিয়োগ পেয়েছি। মামলাটি কেন এতদিন ঝুলে আছে, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি রাষ্ট্রপক্ষের গাফেলতির বিষয় স্বীকার করে বলেন, রায় বিলম্ব হওয়ার পেছনে বাদী-বিবাদী ও সাক্ষীদের গাফেলতিও থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তির জন্য আমরা কাজ করছি।’’

এম

Link copied!