দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় কাঁচামাটিয়া নদী: ঈশ্বরগঞ্জের প্রাণহীন জলধারা

  • রিপন গোয়ালা অভি, ময়মনসিংহ | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় কাঁচামাটিয়া নদী: ঈশ্বরগঞ্জের প্রাণহীন জলধারা

ছবি: প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দখল ও দূষণের কারণে নাব্যতা হারিয়ে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে গেছে কাঁচামাটিয়া নদী। এক সময় শহরের গঠন ও স্থানীয়দের জীবিকা, পরিবেশ ও যোগাযোগের কেন্দ্র এই নদী এখন চর ও কচুরিপানায় ভরে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে নোংরা পানিতে।

নদীটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি উপনদী। এর উৎসস্থল ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১৩৮ মিটার। ঈশ্বরগঞ্জ অংশে এটি কাঁচামাটিয়া এবং নান্দাইল অংশে নরসুন্দা নামে পরিচিত। নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করায় নদীর প্রস্থ সংকুচিত হয়ে অনেক জায়গায় খালে পরিণত হয়েছে।

একসময় খরস্রোতা নদীটি হাট-বাজার ও বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। স্থানীয় চাঁন মিয়া জানান, নদীতে বড় বড় পাল তোলা নৌকা চলাচল করত এবং ব্যবসায়ীরা ধান, পাটসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করত। এখন চর জেগে নৌকা চলাচল বন্ধ। কামরুল হাসান বলেন, মানুষ নিজের প্রয়োজনে নদীটি ধ্বংস করেছে। সাইফুল ইসলাম জানালেন, ছোটবেলায় নদীতে প্রচুর মাছ ছিল, এখন মাছের নামেও নেই।

এক কৃষক বলেন, আগে নদীর পানি ও বর্ষার পলি মাটির মাধ্যমে চাষ জমিতে উপকৃত হতো। বর্তমানে নদীতে পানি নেই, এবং থাকা নোংরা পানি চাষে ব্যবহারযোগ্য নয়। নদীর নোংরা পানিতে চর্মরোগও দেখা দেয়।

পৌর শহরের বাসিন্দা রাসেল মিয়া জানান, নদী এখন পৌর এলাকার সকল বর্জ্য ফেলার স্থান। ময়লা নদীর পানিতে মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সারাদিন ময়লা পোড়ানোর ধোঁয়া ছড়িয়ে শহর ও আশপাশের এলাকা দূষিত হচ্ছে, যা মানুষকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত করছে।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সালাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, হারুয়াতে ময়লা ফেলার নতুন জায়গা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন, যা শেষ হলে নদীতে আর ময়লা ফেলা হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, নদী অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে খননের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা খনন শুরু করলে নদী আবার আগের রূপে ফিরবে এবং এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে।

নদীটি পুনরায় খনন হয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা রাখছেন স্থানীয়রা।

এসএইচ 

Link copied!