ফুলবাড়ীতে অস্বাস্থ্যকর সেমাই উৎপাদন করায় জরিমানা

  • কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ফুলবাড়ীতে অস্বাস্থ্যকর সেমাই উৎপাদন করায় জরিমানা

ছবি: প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং নিষিদ্ধ ফুড কেমিক্যাল ব্যবহারের দায়ে এক বেকারি মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে মেসার্স মুহিন ফুড প্রোডাক্টস নামের বেকারিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ অপরাধে বেকারি মালিক হাফিজুর রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫২ ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসাইন বলেন, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চালানো হবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন বা নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উপজেলার কাশিপুর কলেজ মোড় এলাকায় নিম্নমানের সেমাই উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, “মেসার্স মুহিন ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড” নামের সাইনবোর্ড থাকলেও দোকানের পেছনে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। কারখানার চারপাশে ময়লা-আবর্জনা, অপরিষ্কার তৈজসপত্র এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সেমাই উৎপাদনের অভিযোগ স্থানীয়দের। কারখানায় প্রায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

কারখানার মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সেমাই উৎপাদন করা হয়। তবে উৎপাদনের মান ও পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নিম্নমানের পাম অয়েল ও ডালডা দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণ করলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে এসব সেমাই বাজারে ছড়িয়ে পড়লে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে নিয়মিত অভিযান চালানো হলে এসব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে।

এসএইচ 
 

Link copied!