মামলার ভয় দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ফেরত দিতে এসে অবরুদ্ধ এএসআই

  • সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
মামলার ভয় দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ফেরত দিতে এসে অবরুদ্ধ এএসআই

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মামলার ভয় দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জহিরুল ইসলাম নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে এসে চৌধুরীবাড়ি এলাকায় জনতার হাতে অবরুদ্ধ হন তিনি। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম বর্তমানে এএসআই পদে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তিনি স্থানীয় এক বৃদ্ধের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়িত্ব পালনকালে এএসআই জহিরুল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দা ইসহাক মিয়ার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা এবং ৩২ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে নেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে।

ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৩ নভেম্বর জহিরুল ইসলাম তাঁদের বাসায় গিয়ে তাঁর বাবাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে পাঁচ-ছয়টি মামলার ভয় দেখান। গ্রেপ্তার এড়াতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে নিরুপায় হয়ে দর-কষাকষির মাধ্যমে তাঁকে নগদ এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর ৩২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোনও কিনে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করা হলে তদন্ত শুরু হয়। এরপর জহিরুল ইসলাম কয়েক দফা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং দুই দফায় ৯০ হাজার টাকা ফেরতও দেন।

সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, সোমবার তিনি আবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করে বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং ঘটনার বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে তাঁরা রাজি না হলে তিনি হুমকি দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন, ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ফতুল্লা থানার এক এএসআইয়ের সঙ্গে স্থানীয়দের ঝামেলার খবর পেয়ে থানার এসআই মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে অভিযোগটির তদন্ত করছেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম। তিনি জানান, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে তাঁকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

এম

Link copied!