ছবি : প্রতিনিধি
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের জালিয়া হাটি গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুমকে (৫০) দীর্ঘ ১৮ বছর পর শিকলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইউম খানের তত্ত্বাবধানে শুকুমের পায়ের শিকল খুলে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সযোগে ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্ম থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুম প্রায় ১৮ বছর ধরে পরিবারের তত্ত্বাবধানে শিকলবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের দাবি, একবার হারিয়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থায় থাকায় তাঁর শারীরিক সক্ষমতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সোনালী নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে ইউএনও আব্দুল কাইউম খান নিজে শুকুমের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
শুকুমের ভাই লোকমান চৌকিদার বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। অনেক বছর ধরে ভাইকে দেখাশোনা করছি। সে একবার হারিয়ে গিয়েছিল, তাই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বেঁধে রাখতে হয়েছিল। প্রশাসন এগিয়ে আসায় আমরা খুব খুশি। এখন যদি ভাই ভালো চিকিৎসা পায়, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমবে।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুকুমের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যয় বহন করা হবে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলবে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইউম খান বলেন, “শুকুমের বিষয়টি জানার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য যা যা প্রয়োজন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, দীর্ঘদিনের শিকলবন্দী জীবন শেষে যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে শুকুম স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :