ছবি : প্রতিনিধি
ঈশ্বরদী: পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে চলমান একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে ধারণ করা একটি টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্ব পালনরত একজন শিক্ষক দরজা দিয়ে বাইরে চলে যাচ্ছেন। ঠিক ওই সময়ে কক্ষের সামনের সারিতে বসা এক শিক্ষার্থী ভিডিওটি ধারণ করছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছেন, কেউ অন্যের খাতা দেখে লিখছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।
এই ঘটনায় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষায় কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও ভিডিও ধারণ করার সুযোগ তৈরি হলো?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টিকে দায়িত্বে অবহেলার ফল বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার হলে যদি যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা হতো, তবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
শুক্রবার (১৯ জুন ) বিকেলে এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কলেজ কক্ষে ধারণ করা ওই ভিডিওটি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। ঐদিন আমি কলেজে একটি কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম । আমাদের কলেজে শিক্ষকসংকট থাকার কারণে প্রতিটি কক্ষে দুজন করে শিক্ষক দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই কারণে কয়েকটি কক্ষে একজন করে শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী ভিডিওটি ধারণ করেছে, তাকে আগামী রোববার (২১ জুন) মাসহ ওই শিক্ষার্থীকে কলেজে আসার জন্য বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই শিক্ষার্থী যেহেতু কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে সেহেতু তাকে ছাড়পত্র (টি সি) দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কলেজে আগে থেকেই নির্দেশনা রয়েছে কোন ছাত্র-ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে, পরীক্ষার হলে কোন ডিভাইস নিয়ে যেতে পারবে না। তারপরও হয়তোবা ওই শিক্ষার্থী লুকিয়ে ডিভাইস নিয়ে গেছে। পাশাপাশি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে পরীক্ষার হলে স্যারদের কোন গাফিলতি ছিল কি না। যদি থাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :