ছবি: প্রতিনিধি
জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজনের কাছ থেকে চেয়ারম্যান নিজে এবং তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কেউ ল্যাট্রিন পাননি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউনিয়নের দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে স্যানিটারি ল্যাট্রিন বিতরণের জন্য বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্প্রতি ৩৫ জনের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তালিকায় নাম থাকা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, স্যানিটারি ল্যাট্রিন পাওয়ার আশায় তারা বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে দিয়েছেন চেয়ারম্যান ও তাঁর অনুসারীদের হাতে।
তালিকাভুক্ত মো. বাবুল নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া নিজে তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। একই তালিকার সকিনা নামে আরেক নারী জানান, চেয়ারম্যানের লোক হিসেবে পরিচিত খোকন হাওলাদার তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিলেও এখনও পর্যন্ত ল্যাট্রিন পাননি। এ ছাড়া কারও কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ৭, ৮, ১০, ১২ ও ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ খোকন হাওলাদার, বাদশা এবং কয়েকজন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগের বিষয়ে খোকন হাওলাদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অপর সহযোগী বাদশা কোনো টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য দাবি করেন, চেয়ারম্যান প্রতি ল্যাট্রিনের জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। পরে তিনি নিজের এলাকার দুজন অসহায় মানুষের জন্য ১০ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করে চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দিয়েছেন।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। রাজনৈতিকভাবে ফাঁসাতে তাঁর বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে মুখ খোলায় কয়েকজন ভুক্তভোগীকে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
জাজিরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, পুরো উপজেলায় দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে ৬০০টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পাঠানো খসড়া তালিকা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের পর বিধি অনুযায়ী ব্যাংকে নির্ধারিত পাঁচ হাজার টাকা সরকারি ফি জমা দিতে হবে। ইউপি চেয়ারম্যানের আলাদাভাবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান জানান, স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএইচ