১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস

ছবি: প্রতিনিধি

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ১২৩ বছর, তবে পরিবারের দাবি প্রকৃত বয়স আরও বেশি। বয়সের ভারে শরীর অনেকটাই নুয়ে পড়েছে, চলাফেরাও সীমিত এবং কানে কম শোনেন। কিন্তু চোখের দৃষ্টিতে এখনো বয়সের ছাপ পড়েনি। চশমা ছাড়াই খালি চোখে কোরআন শরিফ পড়েন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আব্বাস প্রামানিক।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি এলাকায় বিনামূল্যে শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলের বাবা আব্বাস প্রামানিক সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন এবং জীবনে বিলাসিতা কখনো পছন্দ করেননি। একসময় অর্থ-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে ভাঙাচোরা একটি ঘরে বসবাস করছেন।

বয়সের কারণে চলাফেরা কমে গেলেও নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন তিনি। সহযোগিতা ছাড়াই নিজ হাতে কাপড় পরিধান করেন, নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াত করেন। দীর্ঘ জীবনে তিনি ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তানি আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন দেখেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। বয়সের ভারে জীবনের অনেক স্মৃতি মনে করতে না পারলেও ধর্মীয় অনুশাসন ও নিজের অভ্যাসগুলো এখনো ধরে রেখেছেন। বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল তাঁর পছন্দের খাবার। একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও বর্তমানে বয়স ও অসুস্থতার কারণে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। মূলত নাতি ও নাতবউয়েরাই তাঁর দেখাশোনা করেন।

আব্বাস প্রামানিকের নাতি শফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর দাদা খুবই ধর্মপ্রাণ ও সৎ মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে কোনো দিন অন্যায় করেননি। গাড়ি চড়াকে বিলাসিতা মনে করে জীবনের অধিকাংশ সময় পায়ে হেঁটেই চলাফেরা করেছেন। এখন চলাফেরা করতে না পারায় পরিবারের সবাই মিলে তাঁর দেখাশোনা করছেন।

আব্বাস প্রামানিকের মেয়ে আলিমা বেগম জানান, পাঁচ বছর বয়সে মা মারা যাওয়ার পর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন। বাবা কখনো কোথাও যেতে গাড়িতে উঠতেন না, পায়ে হেঁটেই যেতেন। বয়সের কারণে বাবা দুর্বল হয়ে পড়ায় ভাইয়ের ছেলেদের কাছে থাকেন এবং তাঁরাই দেখাশোনা করেন। সন্তান হয়েও তাঁরা চোখে কম দেখলেও এত বছর বয়সেও তাঁর বাবা চশমা ছাড়া কোরআন পড়তে পারেন।

প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম জানান, শান্ত স্বভাবের এই মানুষটিকে দীর্ঘদিন ধরে দেখছেন। বয়সের কারণে চলাফেরা সীমিত হলেও তাঁর নামাজ ও কোরআন পড়ার অভ্যাস এখনো আছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, প্রবীণ এই মানুষটির চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুবজিপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!