‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ ফেসবুকে এসিল্যান্ডের পোস্ট

  • সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ ফেসবুকে এসিল্যান্ডের পোস্ট

ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় মাঠ প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও অস্বাভাবিক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিজের সম্ভাব্য মৃত্যুর জন্য জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে চরম তোলপাড়ের সৃষ্টি হলেও ইউএনও দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে ওই বিষাদময় পোস্ট দেন গত দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে কর্মরত এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। এর পরপরই তাঁর অন্য একটি পোস্টে তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দেন।

পোস্টগুলো নজরে আসার সাথে সাথেই স্থানীয় পুলিশ, সহকর্মী এবং উৎসুক জনতা তাঁর সরকারি বাসভবনে ছুটে যান। পরে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল। এসিল্যান্ড ও তাঁর স্ত্রী শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সেই কেক কাটার আয়োজনে অংশ নেন। তবে জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরপরই নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এমন বিস্ফোরক পোস্ট দেন এসিল্যান্ড।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক পোস্ট দেখে পুলিশ যখন তাঁর বাসায় পৌঁছায়, তখন এসিল্যান্ড অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসককে ডেকে তাঁর স্ত্রীর পরামর্শে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হলেও তাতে তেমন কাজ হয়নি।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিঞা জানান, অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে রাত একটার দিকে তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, তাঁর নামে কেন এ ধরনের পোস্ট দেওয়া হলো বা তাঁকে দায়ী করার মূল কারণ কী, তা তিনিও অনুধাবন করতে পারছেন না। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান তাঁর কন্যাসন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং একজন আনসার সদস্যকে মারধর করাসহ রাস্তায় পথচারীদের সাথে অহেতুক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

প্রশাসনের একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার এমন আচরণ এবং সহকর্মীর বিরুদ্ধে জীবননাশের আশঙ্কার অভিযোগ সরাসরি ফেসবুকের মতো উন্মুক্ত মাধ্যমে প্রচার করায় বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের পেশাগত অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের মানসিক চাপ, প্রশাসনিক দ্বন্দ নাকি ব্যক্তিগত কোনো বিষাদ এই সংকটের পেছনে কাজ করছে-তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসএইচ 

Link copied!