গাজীপুর : ঈদের সময় চিত্র বিনোদনের জন্য বরাবরের মতো এবারও ভ্রমণ পিপাসুদের প্রথম পছন্দ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় অবস্থিত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক হবে বলে ধারণা করছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ঈদ উপলক্ষে বিনোদন ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কথা চিন্তা করে এ সাফারি পার্কটি প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন এক সাজে।
জানা গেছে,যেকোনো উৎসব,জাতীয় দিবস এবং ছুটির দিনে বিনোদন ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ঘোরে বেড়ানোর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক।
ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে পরের বেশ কিছুদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন। তাদের কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই পার্কের রাস্তা,সৌন্দর্য বর্ধনকারী গাছাপালা এবং প্রাণীদের বেষ্টনীগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয় দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে রয়েছে ছোট ছোট টিলা ও শালবন। থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে ২০১৩ সালে এটি গড়ে তোলা হয়।
যে কোন বয়সের মানুষই একটু নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে বিনোদন উপভোগ করার জন্য এখানে আসতে পারবে।
এই পার্কের চারপাশে রয়েছে উন্মুক্ত বাঘ,সিংহ,জিরাফ,বন্য হরিণ,জেব্রাসহ নানা প্রাণীর বিচরণ। এর মধ্য দিয়ে বিশেষ গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো জন্য দর্শনার্থীদের অন্য রকম এক শিহরণ এনে দেবে।
সাফারি পার্কে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। তবে বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে ২০ টাকা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রবেশ ফি ১০ টাকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাসফরে গেলে বিশেষ প্রবেশ ফি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ১০০ জন হলে প্রবেশে দিতে হবে ৪০০ টাকা। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক শর বেশি হলে লাগবে ৮০০ টাকা।
আগত বিনোদন প্রেমীদের গাড়ী পার্কিংয়ের কথা বিবেচনা করে। এখানে করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
গাড়ী পার্কিং ভাড়া হিসেবে বাস,কোচ বা ট্রাকের জন্য ২০০ টাকা; মাইক্রো বা মিনিবাস ১০০ টাকা এবং জিপ, প্রাইভেট কার ও অটোরিকশার জন্য ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইমরান আহমেদ জানান,শুধু সাপ্তাহিক মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিনই সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে সাফারি পার্ক। তিনি বলেন,এবারের ঈদেও ভ্রমণ পিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় পড়বে।
রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কেউ আসতে চাইলে খুব সহজেই আসতে পারবে সাফারি পার্কে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক ধরে শ্রীপুরের বাঘের বাজার আসতে হবে বিনোদন প্রেমীদের। পরে সেখান থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই দেখা মেলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের।
সোনালীনিউজ/এমটিআই
আপনার মতামত লিখুন :