গাজীপুর: জনসংখ্যা, আয়তন, জাতীয় রাজনীতি ও শিল্প কারখানায় সমৃদ্ধ দেশের একমাত্র আলোচিত সিটি নামে পরিচিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
তবে এবার সেই আলোচিত নাম তলানিতে ডুবতে যাচ্ছে সমালোচনার মুখে। সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত লাখ-লাখ বাসিন্দা অভিযোগ তুলছেন, সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনার স্তূপ দেখে মনে হয় এ যেনো এক বর্জ্যের পাহাড়। শুধু তাই নয় মহানগরীর বাসাবাড়ি ও দোকানপাট থেকে সংগ্রহ করা ময়লা আবর্জনা গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে এসে ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে। এসব বর্জ্য আবর্জনার স্তূপ থেকে বাতাসে মিশে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়াচ্ছে বিষাক্ত দুর্গন্ধ। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। রোগাক্রান্ত হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকরা জানিয়েছেন, ১০ বছর অতিবাহিত হতে চলছে, মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপসারণের জন্য এখনো কোন দৃশ্যমান সুফল দেখতে পাচ্ছেন না। যার ফলে এখনো বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার-হাজার পথচারীরা।
সরেজমিনে গাজীপুর অংশের ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের কড্ডা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বর্জ্যের এক বিশাল পাহাড়। দৈনিক মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এখানে ট্রাক ভ্যানে করে নিয়ে এসে এখানেই ফেলা হচ্ছে।
কথা হয় তাকওয়া পরিবহনের চালক, হেলপার ও যাত্রীদের সঙ্গে। তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রতিদিন এই রাস্তা হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা এবং চান্দা চৌরাস্তা তাদেরকে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু কয়েক বছর যাবত তারা অসহনীয় বর্জ্যের দুর্গন্ধ সয়ে চলছেন। এ স্থানে আসা মাত্র ইতাদের যেনো দম বন্ধ হয়ে পড়ে।
কথা হয় কড্ডা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন দেশের অন্য তম সিটি কর্পোরেশন হলেও এর সেবার মান এখনো তেমন উন্নত হয়নি। তিনি বলেন, ১০ বছর পার হতে চলছে অথচ সিটি কর্পোরেশন এর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের এই কষ্ট লাগবে কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
এ দিকে সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গাজীপুর সিটি থেকে প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা বের হচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজর ৫০০ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিন সিটি করপোরেশন সংগ্রহ করে। সিটির ৭ ও ৮ নম্বর জোনের ময়লা সংগ্রহ করে স্থানীয় কমিউনিটি তাদের পরিবহন দিয়ে। গাজীপুরে ২২টি সেকেন্ডারি সাবস্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি পাকা, বাকি ২০টিই খোলা জায়গায়। এসব খোলা জায়গা থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ফেলা হচ্ছে কড্ডা এলাকায়। সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে ফেলতে ৩০-৪০ ফুট উঁচু হয়ে গেছে। বর্তমানে তাদের প্রায় ৪০০ জন কর্মী ও ৫০টি যানবাহন রয়েছে। ময়লার ওপর বিদ্যুতের তার থাকায় ভেকু দিয়ে কাজ করার সময় কয়েকবার বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি যখন মেয়র নির্বাচিত হয়ে নগরীর দায়িত্ব নেন। এর পর থেকেই মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মাষ্টার প্ল্যান করে কাজ শুরু করে ছিলেন। তার কাজ অনেকটা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছিলো। মেয়র পদ হারানোর পর থেকে সেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে তেমন উন্নতি হয়নি। যার কারণে নাগরিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অপর দিকে এবার ২০২৩ সালে ২৫ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পূর্ব সময়কাল ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদে দায়িত্ব থাকা আসাদুর রহমান কিরণ জানিয়েছেন, তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজ দ্রুত বেগবান করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ এই সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ১০০ বিঘা জমি ইতিমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কাজ শেষের দিকে। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সেই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা রাখছেন।
সোনালীনিউজ/এম
আপনার মতামত লিখুন :