কাপাসিয়ায় আনারস চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা 

  • গাজীপুর প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৩, ০৪:২৭ পিএম
কাপাসিয়ায় আনারস চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা 

গাজীপুর: দেশে আনারস চাষের জন্য বাণিজ্যিক ভাবে বিখ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুর এবং কিছু পাহাড়ি অঞ্চলকেই সাধারণত বিবেচনা করে থাকি। তবে এবার বিখ্যাত এসব অঞ্চলকে ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক ভাবে আনারস চাষের অপার সম্ভাবনার দোয়ার উন্মোচন হয়েছে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার লালমাটির টেকটিলা জমিতে। 

জানা গেছে, মাত্র ৫/৬ বছরের মধ্যে কাপাসিয়া উপজেলার কৃষকরা দেশি জাতের পাশাপাশি জলডুগি ও ক্যালেন্ডার জাতের আনারস করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। যে সব কৃষকরা আনারস চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এখন তাদেরকে দেখে নতুন-নতুন কৃষকরা আনারস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ অঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে আনারস চাষের জন্য যদি সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হয়। তাহলে কাপাসিয়া উপজেলায় কৃষি অর্থনীতির নতুন বিপ্লব ঘটবে আনারস চাষের মাধ্যমে। 

এ দিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,গত কয়েক বছর যাবত ধারাবাহিক ভাবে কৃষকরা আনারস চাষে লাভবান হওয়ায় আগের তুলনায় আনারসের চাষ এখন দিগুণ বেড়েছে।এবার কাপাসিয়ায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। উৎপাদিত আনারসের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন। পুরো কাপাসিয়ায় ৩ হাজার ২৫০ জন কৃষক নিয়মিত আনারসের চাষ করছেন। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য কৃষকরা স্বর নিম্ন ১ বিগা থেকে শুরু করে ১০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে আনারসের চাষ করেছেন। আগে শুরু দেশি জাতের আনারস চাষ বেশি করতেন তারা। তবে এবার অনেক কৃষকরা দেশি জাতের পাশাপাশি জলডুগি ও ক্যালেন্ডার জাতের আনারস করেছেন। প্রতিটি বাগানেই ভাল ফলন হয়েছে। অল্প খরচে বেশি মুনাফা লাভ করায় অনেক খুশি এ অঞ্চলের আনারস চাষীরা। 

এ অঞ্চলের আনারসের পুষ্টিমান ও স্বাদে ভাল হওয়ায় ও বাজারে চাহিদা থাকায় চাষীদের 
উৎপাদিত আনারস পাইকাররা জমিতে ও সড়কের পাশের দোকানে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।পরে এসব আনারস পাইকাররা দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দিচ্ছেন ট্রাকে বা বিভিন্ন পরিবহনের সাহায্যে। এতে করে পাইকাররাও ভাল লাভবান হচ্ছেন।

ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কাপাসিয়ার বারিষাব ইউনিয়নের লোহাদী গ্ৰাম। এই গ্রামে দেখা হয় আমিনুল ইসলাম নামে এক পাইকারের সঙ্গে। 

এ সময়ে তিনি জানান, তিনি বছরের এই সময়ে কাপাসিয়া উপজেলার আনারস সংগ্রহ করেন। কারণ এখান থেকে খরচ কম পড়ে মাত্র ২০ থেকে ৬০ টাকা ধরে আনারস কিনেন। আবার কাপাসিয়ার আনারস বাজারেও ভাল চলে। ক্রেতারা কাপাসিয়ার কথা শোনে আনারস কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠে। 

লোহাদী গ্রামের আনারস চাষি মো: আরমান জানিয়েছেন, এবার তিনি এক বিঘা জমিতে আনারসের চাষ করেছেন।পুরো জমিতে ফলন ভাল হয়েছে। তিনি বলেন,এবার তিনি ক্যালেন্ডার ও জলডুগি দুই জাতের আনারসের চাষ করেছেন। আনারসের চাহিদা বাজারে সব সময়ই ভাল থাকে। তবে এবার দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার দাম ভাল পাওয়ায় তার এক বিগা জমিতে ১ লাখ টাকার অধিক আনারস বিক্রির আশাবাদী তিনি। তিনি আরও বলেন,আনারস চাষে লাভের মূখ দেখছেন। তাই নতুন করে আরও আনারসের চারা গাছ রোপণ করবেন। 

কাপাসিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মিলি জানিয়েছেন,কাপাসিয়ার মাটি আনারস চাষের জন্য খুব উপযোগী। কাপাসিয়ায় আগে শুধু দেশি জাতের আনারস পাওয়া যেত। কৃষকরা অন্যজাত সম্পর্কে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। তবে এখন দেশি জাতের পাশাপাশি অন্যজাতের আনারস চাষ হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার ক্যালেন্ডার ও জলডুগি আনারসের চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের আনারস চাষের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। 

সোনালীনিউজ/এম

Link copied!