৬ বিয়ে করে হাতিয়ে নিয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা

  • রাজবাড়ী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩, ০৭:৫৭ পিএম
৬ বিয়ে করে হাতিয়ে নিয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহরিয়ার নাফিজ ইমন ওরফে বুলবুল।

রাজবাড়ী: দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের টার্গেট করে একে একে করেছেন অন্তত ৬টি বিয়ে। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এছাড়া চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করেও হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অঙ্কের অর্থ।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহরিয়ার নাফিজ ইমন ওরফে বুলবুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তার সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

আজাদ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার বড় দুধপাতিলা গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান, রাজবাড়ী পুলিশ সুপার (এসপি) জি এম আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহরিয়ার নাফিজ ইমন ওরফে বুলবুল দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরী নারীদের টার্গেট করে একে একে ৬টি বিয়ে করেছেন। এদের কাছ থেকে এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেন তিনি।’

এসপি বলেন, ‘পাংশা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফজর আলী র‌্যাব-৫ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পাংশা মডেল থানার মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় আবুল কালাম আজাদকে নাটোর জেলা সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।’

এসপি আরও বলেন, ‘আজাদ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সরকারী অডিট অফিসার হিসেবে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোর, পাবনা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন থানা অঞ্চলে দায়িত্বে আছেন বলে পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন, এক পর্যায়ে বিয়েও করেন। এভাবেই রাজবাড়ীর পাংশায় ১৭ বছর বয়সী এক মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গত ৪ মার্চ প্রতারণামূলক বিবাহ করেন। পরে গত ২৭ আগস্ট তাকে ফরিদপুর শহরস্থ রথখোলা যৌনপল্লীতে নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেন তিনি। এর আগে, তার বসতঘর থেকে বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ৮ লাখ টাকা চুরি করেন তিনি। এ ছাড়া গত ৭ মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পাংশা মডেল থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাত জনের কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন।’

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আজাদ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুন্দরী নারীদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তার প্রতারণা কাজের সুবিধার্থে তাদের বিবাহ করেন। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬টির বেশি বিয়ে করেছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৪টি প্রতারণার মামলা এবং ১টি চোরাচালানের মামলা রয়েছে। দামুড়হুদা থানায় ২টি ওয়ারেন্ট রয়েছে।’

ওয়াইএ

Link copied!