অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী

  • বরিশাল প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী

ছবি : প্রতিনিধি

বরিশাল: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করতে কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে বীজ, সার, সেচ ও অন্যান্য প্রণোদনা বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডাপাশায় কাপলাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাপলাতলী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। মন্ত্রী জানান, সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শিগগিরই হবে। বরিশালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ।

তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাছ রোপণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও ত্বরান্বিত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে সরকারি সহায়তা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে ভর্তুকি, বীজ ও সারের মতো সহায়তা যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত হবে। স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয় ও অনিয়ম কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নমানের বীজ কৃষি উৎপাদনের বড় অন্তরায়। পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে একই জমিতে বেশি ফলন সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে আসবে।

আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনো দেশের অনেক কৃষক পুরোনো পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। আধুনিক যন্ত্র সহজলভ্য হলে শ্রম ও সময় দুটিই সাশ্রয় হবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও দক্ষ হবে।

তিনি বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, সেচ ব্যবস্থাপনা ও ফসল সংরক্ষণের জ্ঞান না থাকলে উৎপাদনের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। সে কারণে কৃষি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,আমরা কোনো দলীয় সরকার বা দলীয় রাষ্ট্র গঠন করবো না। আমরা জনগণের সরকার করবো। নির্বাচিত হলে সরকারে থাকবো, না হলে থাকবো না। তবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমলা ও পুলিশকে জনগণের জন্য কাজ করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের সেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারলেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। কৃষি খাতের উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সরাসরি প্রণোদনা এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নই দেশের টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পিএস

Link copied!