ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে বেডরুমে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ গুলি করে হত্যার হুমকির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালিব ও জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাশেদ হোসাইন পাঁচ শ টাকার বন্ডে পিয়ার পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশের পর আইনজীবীদের তৎপরতায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এর আগে রোববার রাতে নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও মোবাইল ফোনে কর্মকর্তার পরিবারকে হত্যার হুমকির অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর সোমবার রাতে যৌথ অভিযানে র্যাব-১৩ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর গোয়েন্দা শাখা গালিব ও মিথুনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট লাইনের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এতে শতাধিক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে প্রতিষ্ঠানের পপ ম্যানেজার রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিকেলে গালিব, আকিবুল রহমান মনু ও তাদের সহযোগীরা অফিসে ঢুকে স্টাফদের ওপর হামলা চালান। তামজিদুর রশিদ গালিবের নির্দেশে ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয় এবং কামাল কাছনা এলাকায় তাকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাহাদী হাসান কাফিকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘সমাধান না করলে বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে আসব।’ এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কোতোয়ালি থানায় ‘ক্যাবল ওয়ান’ ও ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ কর্তৃপক্ষ পৃথক মামলা দায়ের করে। মামলায় গালিব, মনুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার পর সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই নেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে। ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজও চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
জামিন মঞ্জুর হলেও মামলার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় রংপুরের প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :