“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বান্দরবানের লামায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা। পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলহাজারা ইউনিয়নের প্রখ্যাত বলি রমিজ উদ্দিন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বলি খেলার চূড়ান্ত লড়াইয়ে চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের রমিজ উদ্দিন বলি অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে শিরোপা জয় করেন। অন্যদিকে, শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে রানার-আপ হয়েছেন চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাদশাহ বলি।
বলি খেলার পাশাপাশি এদিন সকালে ও বিকেলে একই মাঠে কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা একাদশ এবং রানার-আপ হয় পৌরসভার নোয়াপাড়া একাদশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল ও সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাসেল।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র আমির হোসেন আমু, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সাহারা বান তহুরা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, লামা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ সুজন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, এবং লামা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন বলেন, "বলি খেলা ও কাবাডি আমাদের সংস্কৃতির শেকড়। যে জাতি তার সংস্কৃতির শেকড় ভুলে যায়, সে জাতি এগোতে পারে না। আগামী প্রজন্মের সামনে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।"
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ সুজন জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিবছরই এই উৎসবের আয়োজন করা হবে।
পহেলা বৈশাখের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে লামার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এম
আপনার মতামত লিখুন :