পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। শিক্ষকের সংখ্যা চারজন হলেও শিক্ষার্থী মাত্র পাঁচজন। শ্রেণিকক্ষ প্রায় অচল, স্কুল প্রাঙ্গণের পাশে গড়ে উঠেছে গরুর খামার, আর ছুটির দিনেও নিয়ম ভেঙে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা।
উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষগুলো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। অনেক কক্ষ তালাবদ্ধ, কোথাও ধুলাবালি জমে আছে, আবার কোনো কোনো কক্ষে নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি কক্ষে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে কয়েকটি বেঞ্চ। পুরো পরিবেশে শিক্ষাদানের কোনো কার্যক্রম চলছে—এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না।
বিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি গরুর খামার। শ্রেণিকক্ষের সন্নিকটে গবাদিপশু রাখার কারণে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আশ্চর্যের বিষয়, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির তুলনায় গরুর গোয়ালঘরটিই বেশি পরিচ্ছন্ন বলে জানান এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গত রোববার (১২ এপ্রিল) বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ছিল। কিন্তু ছুটির দিনেও বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পণ ঘরামী জানায়, তাদের শ্রেণিতে শিক্ষার্থী মাত্র দুইজন। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে একজন, অন্য শ্রেণিগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। সে আরও জানায়, শিক্ষকরা নিয়মিত দেরিতে আসেন এবং আগেভাগেই চলে যান।
বিদ্যালয়ের দপ্তরির দায়িত্বে থাকা মিত নামের এক নারী বলেন, “আজ স্কুল খোলা না বন্ধ, আমি জানি না। প্রতিদিনের মতো আজও পতাকা উত্তোলন করেছি। শিক্ষার্থী কম, তবে শিক্ষকরা বিকেল তিনটা-সাড়ে তিনটা পর্যন্ত থাকেন।” তিনি আরও জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ভেতরে গরুর খামার নির্মাণ করেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম হাসান বলেন, “ছুটির দিনে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। আমি নিজে স্কুলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব।” তিনি জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী স্বল্পতার বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্কুল বন্ধ রাখা পতাকার অবমাননার শামিল। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের পাশে গরুর খামার ও শিক্ষার্থী স্বল্পতার বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে এমন অব্যবস্থাপনা চললেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এম
আপনার মতামত লিখুন :