ছবি : প্রতিনিধি
রাজশাহী: রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির দুইদিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ বাবা আফছার আলী (৬০) ও ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৪০)-এর কোনো সন্ধান মেলেনি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলার চরখানপুর সংলগ্ন বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় করে ফেরার পথে প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় নৌকায় থাকা জিয়ারুল ইসলামের মা জাহেরা বেগম সাঁতরে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হলেও আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পদ্মা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নদীর প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনা করা হলেও নিখোঁজ দুজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ফরহাদ হোসেন জানান, নদীতে স্রোত অনেক বেশি থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সকালে অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও উদ্ধার নৌকা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় দুপুরে অভিযান শুরু করা হয়। বিকেল পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এদিকে পবা উপজেলার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকায় নিখোঁজদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও প্রতিবেশীরা উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন, যদি কোনোভাবে তাঁদের সন্ধান মেলে। একই পরিবারের দুই সদস্য নিখোঁজ হওয়ায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জিয়ারুল ইসলামের মা জাহেরা বেগম বলেন, “পানিতে তলিয়ে গেলে মানুষ একসময় ভেসে ওঠে। কিন্তু দুইদিন হয়ে গেল, এখনো ওদের কোনো খোঁজ নেই। আল্লাহ জানেন, আর কখনো ওদের মুখ দেখতে পারব কি না।”
স্থানীয়দের আশা, উদ্ধারকারী দলের অব্যাহত প্রচেষ্টায় দ্রুতই নিখোঁজ বাবা-ছেলের সন্ধান মিলবে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।
পিএস