শিল্পপতি ছেলেসহ প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকার পরেও নিঃসঙ্গ অবস্থায় তাহমিনা বেগম নামের এক বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু হয়েছে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁর পচাগলা মৃতদেহের সন্ধান পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। গত রোববার দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের নতুন হাট এ ঘটনা ঘটে।
তাহমিনা বেগম (৬৫) উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ভাড়া বাসায় একা বসবাস করছিলেন। তাহমিনার মৃত্যুর সময় ও কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে মরদেহের পচন দেখে পুলিশের ধারণা, দুই দিন আগে গত শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহমিনা বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে মাঝারি ধরনের একজন শিল্পপতি। তাঁর বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির একটি কারখানা এবং রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ছয়তলা ভবন রয়েছে। সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। ছোট ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো চাকরি করেন। প্রতিষ্ঠিত পাত্রের সঙ্গে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।
স্বজনরা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তাহমিনার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পরে তাহমিনা সন্তানদের মানুষ করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ সময় সেখানে কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালনপালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন। সম্প্রতি বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুন হাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন তিনি।
তাহমিনার ভাড়াবাসার মালিক আব্দুর বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগমকে তাঁর বড় ভাই তাদের বাসায় ভাড়া রাখেন। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। গত রোববার সকালে তাঁর বসতঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে খোঁজ নিয়ে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। গত তিন মাসে তাহমিনার ছেলে-মেয়েরা কেউ একবারের জন্যও তাঁকে দেখতে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে তাহমিনা বেগমের ছেলে-মেয়েরা কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর বড় ছেলে সুমন হাওলাদারকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, বৃদ্ধার মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এম